ব্রেকিং:
পরাজয় মেনে আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষমতা হস্তান্তর করতে রাজি ট্রাম্প ২৭ বছর পর আলোকিত হলো কারাবাখের গ্র্যান্ড মসজিদ

শুক্রবার   ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২১   আশ্বিন ২ ১৪২৮  

“একটি খোলা চিঠি………”

অনিমেষ কুমার মজুমদার, বঙ্গবন্ধু বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, গোপালগঞ্জ।

প্রকাশিত: ২১ নভেম্বর ২০১৮  

প্রিয় কৌশিক,

কেমন আছিস? অনেকদিন ধরে ভাবছি তোকে লিখবো, সময়ই করে উঠতে পারি না। তুইতো জানিস জীবনটাকে যান্ত্রিকতায় রুপ দিয়েছি, এতটুকু সময় নেই নিজেকে নিয়ে ভাবার।কেমন কাটছে তোর নতুন জীবন? মাত্রই বিশ্ববিদ্যালয়ে পা দিয়েছিস, নতুন জায়গা, নতুন পরিবেশ, অপরিচিত মুখ, সব মিলিয়ে জানি একটু অসহায়ত্ব লাগবে। একটু কষ্ট করে মানিয়ে নিস।বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সুযোগ পেয়েছিস, ছাত্রজীবনের একটা স্বীকৃতি। 
হলের আলাদা রুমে জায়গা হয়নি তাই না? কোথায় উঠেছিস? গণরুম নামক শ্রীঘরে? ভেবে দেখ না, তুই আজ যে টেবিলে পড়ছিস, যে খাটে ঘুমাচ্ছিস, ছারপোকার উপদ্রব নীরবে সহ্য করছিস, একদিন সেখানে এক এক করে কত অগ্রজ তার স্বপন বুনেছে। তাঁরা সবাই আজ ব্যক্তি জীবনে সফল। 
বাড়ির কথা খুব মনে পড়ে তাই না? বাবা-মা, ছোট বোনটাকে খুব দেখতে ইচ্ছা করে তাই না? কৌশিক তুই আজ বাড়ির বড় আত্মীয়, কালে-ভদ্রে উৎসব পার্বনে দুদিন কুটুম হয়ে আসবি। ভাল মন্দ দু দিন কাটিয়ে আবার চলে আসবি।
একটা ভালো বন্ধু নির্বাচন করিস , বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে এটা খুব জরুরী, কেননা তোর অবচেতন মন তাকে অনুসরণ করবে।
প্রেম করিস? পারবিতো? জানিস না শেষে ওরা ৬ মাসের সময় দেয় কিছু একটা করতে। নতুবা দুঃখিত বলে অভূতপূর্ব মা বাবার সিদ্ধান্তে অটল থাকে। তবে ব্যতিক্রম ও আছে।
আগে নিজের অস্তিত্ব ঠিক কর।নয়ত ফিকে হয়ে যাবে সব স্বপ্ন, ইতিহাস হয়ে যাবে একসাথে কাটানো সময়।
জীবনের সন্ধিক্ষনে বাস্তবতার মুখোমুখি হয়ে যারা দিশেহারা হয়ে পড়ে, অথই সমুদ্রে সাঁতরে বেড়ায় শুধু টিকে থাকার লড়াইয়ে, তাদেরই ১ম বর্ষে কাধের ব্যাগটার ফিতাটা লম্বা থাকে। রং বেরঙের চুল, কাটিংএ ও ভিন্নতা, পর সংস্কৃতির অপচর্চা,আর আধুনিকতার নামে নেশার ধোয়া টেনে ক্ষনিকের বাদশা সাজে। এদের থেকে নিরাপদ দূরত্বে থাকিস।
কৌশিক, চুলের অদ্ভূত কাট, আটসাট বেখাপ্পা পোশাক, চে-গুয়েভারার ছবি সম্বলিত টি-শার্ট পরে, শার্টের বোতাম খুলে, হাতে রিজব্যান্ড, মুখে জলন্ত সিগারেট, গীটার হাতে সুর-লয় বিহীন চিৎকার করে, কথায় কথায় দু- চারটে ইংরেজি বুলি আওড়ালেই তাকে স্মার্ট বলে না। কৌশিক, জানিসতো তোর ভিতরে ও বাইরে ফাঁকি যত কম, তুই তত স্মার্ট।
বাইরের নয়, ভিতরের সৌন্দর্য্য দেখে কাউকে পছন্দ করিস। কারন একটি ক্ষণস্থায়ী আর একটি চিরস্থায়ী।সাবধান!!!যে মেয়েরা পেঁটের ভাজ দেখানো পোশাক পরে আধুনিকতার নামে অশ্লীলতা ছড়ায়, এদের এড়িয়ে থাকিস, এরা ভয়ংকর।
জানি আর্থিক সংগতি রক্ষা করা তোর সম্ভপর হয়ে ওঠে না, দু-একটা টিউশন করতে পারিস, সাবধান কাঁচা টাকার নেশায় পড়ে যাসনে, ভারসাম্য রক্ষা করতে না পারলে মেরুদন্ড বেঁকে যেতে পারে। 
কৌশিক মনে রাখিস তুই শুধু নিজের জন্য বড় হচ্ছিস না, তুই একজন ভবিষৎ সফল সন্তান, সফল স্বামী, একজন পিতা।তোর দিকে তাকিয়ে আছে একটি পরিবার, একটি সমাজ, গোটা জাতি।
রুগ্ন মা, ভগ্নদেহ কঙ্কালসার পিতা প্রতিনিয়ত স্বপ্নবুনে তোকে ঘিরে। তোর মা কে কোনদিন একটি ভালো শাড়ি পরতে দেখিনি, বাবা একটা ভালো জামা কিনে নাই, বোনটার ও যে মলিন পোশাক। বাজারের ভালো সবজি, বড় মাছটির দিকে ভ্রুক্ষেপ ও করেনি, সান্তনা আমার কৌশিক বড় হয়ে সব কিনে আনবে। একসন্ধ্যে ভালো খায়নি, যদি কিছু টাকা বাঁচে তো সেটা তোর কাজে লাগবে।
তোর বাবার কাশিটা আবার বেড়েছিলো, তোকে জানানো হয়নি, তোর মা ই বারন করেছিল, পাছে তোর পরীক্ষা খারাপ হয়। সদর থেকে ডাক্তার দেখিয়ে এনেছে তোর মা, ঔষধ কেনা হয়নি, দামী ঔষধ, বোনের পরীক্ষার ফি দিতে হলো যে। সামনে মাসে তোর আবার সেমিস্টার ভর্তি, তাই এ মাসে বেশি টাকা পাঠাতে হবে। কত চিন্তা বল!!! নিজেকে নিয়ে ভাববার সময় কই এদেঁর??
তোর বাবা মা শরীরের জোরে নয় মনের জোরে বেঁচে থাকে। বোনটার ও কি কম আক্ষেপ? সব মিটে যাবে, দাদা বড় চাকরী করবে, সব আবদার মিটিয়ে দেবে।প্রতিবেশিরাও স্বপ্নোত্থিত। 
কৌশিক অনুমান করলি তোর কত দায়ীত্ব? অনেক দূরের পথ পাড়ি দিতে হবে তোকে। বুদ্ধিজীবী শিক্ষাগুরুদের নিকট শেখার সুযোগ হয়েছে তোর। অমিত সম্ভাবনা। হারিয়ে যাস নে......
প্রতিনিয়ত এগিয়ে চল, লক্ষ্যে না পৌছানো পর্যন্ত থামিস না................।
বাড়ির জন্য চিন্তা করিস না। আমরা সবাই ভালো আছি, কাঠ খোট্টার শহুরে জীবন নয়, গ্রামে সবাই সবার খোজ রাখে। সামনে পূজা, সময় করে একটু আগে ভাগেই বাড়িতে আসিস। তোকে নিয়ে সারা গ্রাম ঘুরবো। শরীরের দিকে খেয়াল রাখিস, বাইরে বেশি রাত করে থাকিস না। আজ এখানেই শেষ করছি।

ইতি
তোর শুভ দাদা

Loading...