শনিবার   ১৯ অক্টোবর ২০১৯   কার্তিক ৩ ১৪২৬   ১৯ সফর ১৪৪১

গো বিডি ২৪

২২ বছরের আক্ষেপ ঘুচালেন রাসেল

প্রকাশিত: ৭ জানুয়ারি ২০১৯  

যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণের ফোন পাওয়ার মধ্যদিয়ে ২২ বছরের আক্ষেপ ঘুচালেন গাজীপুর-২ আসন (টঙ্গী-জয়দেবপুর) থেকে চতুর্থবারের মতো বিজয়ী সংসদ সদস্য জাহিদ আহসান রাসেল। গাজীপুরের এই আসনটি বরাবরই আওয়ামী লীগের শক্তিশালী ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। সর্বশেষ ১৯৯১ সালে এই আসনে জয়লাভ করেন ধানের শীষের প্রার্থী অধ্যাপক এম এ মান্নান। সে বছর বিএনপি সরকারের মন্ত্রিপরিষদে ধর্ম প্রতিমন্ত্রী হন অধ্যাপক মান্নান।
এরপর ১৯৯৬ সাল থেকে অদ্যাবধি আসনটি আওয়ামী লীগের দখলে থাকলেও গত ২২ বছরে মন্ত্রিপরিষদে জায়গা হয়নি এই আসনের কোন সংসদ সদস্যের।
ডশল্পসমৃদ্ধ গাজীপুরের আসনগুলোকে বিভিন্ন কারণে সরকার গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচেনা করে। আয়তন ও ভোটার সংখ্যার দিক থেকেও গাজীপুর-২ আসনটি গুরুত্বপূর্ণ। এই আসনে মোট ভোটার সংখ্যা প্রায় সাড়ে ৭ লাখ। এছাড়াও জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট, কৃষি গবেষষা ইনস্টিটিউট, সামরিক অস্ত্র কারখানা, টাকসাল, বিশ্ব ইজতেমা ময়দান, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক, ছোট বড় তিন হাজার কল-কারখানা ও শিল্পপ্রতিষ্ঠানের কারণে আসনটি সব সরকারের আমলেই গুরুত্ব পায়। গাজীপুর-১ আসনের মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ.ক.ম মোজাম্মেল হক ও পাশের গাজীপুর-৩ আসনের এমপি ইকবাল হোসেন সবুজও এই আসনে বসবাস করেন।
১৯৯৬ ও ২০০১ সালে এই আসন থেকে নৌকা প্রতীকে জয়লাভ করেন প্রয়াত শ্রমিক নেতা আহসান উল্লাহ মাস্টার। ২০০৪ সালে আহসান উল্লাহ মাস্টারের মৃত্যুর পর উপ-নির্বাচনে প্রার্থী হয়ে বিপুল ভোটে জয়লাভ করেন তার বড় ছেলে জাহিদ আহসান রাসেল। এরপর থেকে টানা চার মেয়াদে গাজীপুর-২ আসন থেকে বিপুল ভোটে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন রাসেল। এবার ২৯৯ আসনের মধ্যে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন জাহিদ আহসান রাসেল। অবশেষে ভালো ফলাফলের জন্য পুরস্কৃত হলেন রাসেল। গত দুই মেয়াদে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি রাসেলকে এবার যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী করা হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে গাজীপুর-২ আসনের জনগণের ২২ বছরের আক্ষেপ ও মন্ত্রিত্ব না পাওয়ার বেদনা ঘুচালেন জাহিদ আহসান রাসেল। তার মন্ত্রিত্বের খবরে নেতাকর্মী ও ভোটারদের মাঝে আনন্দের বন্যা বইছে। উচ্ছ্বসিত নেতাকর্মী ও সমর্থকরা তাদের ব্যক্তিগত ফেসবুক প্রোফাইলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও জাহিদ আহসান রাসেলকে অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা বার্তা জানাচ্ছেন। কেউ কেউ আবার মিষ্টি বিতরণ করে আনন্দ ভাগাভাগি করে নিচ্ছেন।
সোমবার বিকালে স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের পক্ষ থেকে বিশাল শোডাউন ও আনন্দ র‌্যালির আয়োজন করা হবে।
গাজীপুর মহানগর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ও ৪৩ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর আসাদুর রহমান খান কিরণ বলেন, আওয়ামী লীগের শক্তিশালী ঘাঁটি হওয়ার পরও আমরা এই আসন থেকে ২২ বছর যাবত মন্ত্রিত্ব পাইনি। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শহীদ আহসান উল্লাহ মাস্টারের রক্তের উত্তরসূরী, পরিচ্ছন্ন রাজনীতিক জাহিদ আহসান রাসেলকে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী করে আমাদের সেই আক্ষেপ দূর করেছেন। আমরা প্রধানমন্ত্রীর নিকট চিরকৃতজ্ঞ।
টঙ্গী থানা ছাত্রলীগের সভাপতি মেহেদী হোসেন কানন মোল্লা বলেন, জাহিদ আহসান রাসেল এমপির মতো সৎ ও নির্লোভ রাজনীতিবিদকে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী করায় গাজীপুরবাসী অত্যন্ত আনন্দিত ও উচ্ছ্বসিত। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নিকট আমরা চিরঋণী হয়ে গেলাম।
 

Loading...
এই বিভাগের আরো খবর