মঙ্গলবার   ১২ নভেম্বর ২০১৯   কার্তিক ২৭ ১৪২৬   ১৪ রবিউল আউয়াল ১৪৪১

গো বিডি ২৪

সুবিধাজনক অবস্থানে মহাজোট বেকায়দায় ঐক্যফ্রন্ট

প্রকাশিত: ২৩ ডিসেম্বর ২০১৮  

গণমাধ্যমকর্মী হিসাবে নির্বাচনী কাজ করে দেখেছি মূলত ৫টি বিষয়ে ভোটাররা বেশ আগ্রহ
দেখায়। যেমন- ১. দেশাত্মবোধ ২. নেতৃত্ব ৩. নেতৃত্বের সততা ৪. উন্নয়ন ও ভবিষ্যত পরিকল্পনা ৫. প্রচারণা। নির্বাচনে জয় পরাজয়ের থাকবে। কিছু কারন কোনভাবেই দলগুলো এড়াতে পারবে না। কারন ভোট প্রয়োগের ক্ষেত্রে সাধারণ ভোটারের মনে এসব প্রশ্ন আসবে। নির্বাচন অংশগ্রহনমূলক নিশ্চিত করা হয়েছে। আধুনিক প্রচারণা কৌশলের কারনে ভোটারের আগ্রহ ও অংশগ্রহন অন্য যে কোন নির্বাচনের চাইতে বেশী। এখন পর্যন্ত পরিস্থিতিতে নির্বাচন কমিশনকে
সাধুবাদ দেয়া চলে। অপরদিকে স্বাধীনতাবিরোধী দল জামায়াতে ইসলামীর নিবন্ধণ বাতিল হওয়ায়
স্বপরিচয়ে নির্বাচনে অংশ নিতে পারছে না। আরও একটি বিষয় ঐক্যফ্রন্টের নেতৃত্বে থাকা ড. কামাল হোসেন আওয়ামী লীগের ভাবাদর্শে ও ছায়াতলে বেড়ে উঠা । একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন বাংলাদেশের গণতন্ত্রের জন্য মাইলফলক হয়ে থাকবে।
১ . দেশাত্মবোধ ঃ দেশমাত্রিকার জন্য জীবন উৎসর্গ করে অর্জিত আমাদের স্বাধীনতা। দেশাত্মবোধের পরীক্ষায় বাংলার দামাল ছেলেরা বিশে^ মানব জাতির কাছে অনুকরণীয় অনুসরনীয়। অপরদিকে স্বাধীনতা বিরোধী আলবদর রাজাকার ও তাদের দোসর জামায়াতে ইসলামী তরুণ প্রজন্মের কাছে চরমভাবে ঘৃণিত। ঐক্যফ্রন্ট নেতা ড. কামাল হোসেন প্রতিনিয়ত জামায়াত সংশ্রব নিয়ে প্রশ্নের সম্মুখিন হচ্ছেন। এমন প্রশ্নে শহিদ বুদ্ধিজীবি দিবসে তিনি নিজের উপর নিয়ন্ত্রণ হাড়িয়ে গণমাধ্যমকর্মীকে হুমকি ধামকি দিতেও ছাড়েননি। জামায়াতে সংশ্রব তার নেতৃত্বকে যেমন প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। একইভাবে ঐক্যফ্রন্টের নৈতিক অবস্থান জাতির কাছে পরিস্কার। তাদের কাছে দেশ না ক্ষমতাই বড়। স্বাধীনতার স্বপক্ষ শক্তি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রাণের দল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ। মহাজোটের প্রধান সরিক। পাশাপাশি ইসলামী দল গুলোর সাথে ঐক্য করার ক্ষেত্রেও স্বাধীনতা বিরোধীদেও সাথে কোন আপোস করেনি। যে কারনে দেশের সচেতন শিক্ষিত শ্রেনী এবং তরুণ প্রজন্মের কাছে নৌকা মার্কাই প্রাধান্য পাবে।

২. নেতৃত্ব ঃ দল বা জোটের নেতৃত্বে কে আছেন ভোটারের কাছে এটা বড় প্রশ্ন। বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্ব
গুনেই দেশের লাখো জনতা মুক্তিযুদ্ধে ঝাপিয়ে পরে। অর্জিত হয় স্বাধীনতা। একইভাবে যোগ্য নেতৃত্বেও কারনেই সিঙ্গাপুর, মালেশিয়া উন্নত দেশের মর্যাদা লাভ করেছে। বাংলাদেশের ভোটার এখন যথেষ্ট সচেতন। তারা জানে এবং বুঝে সঠিক নেতৃত্বই পারে তাদের ভাগ্যের চাকা সচল রাখতে। বঙ্গবন্ধু কণ্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্ব দেশে বিদেশে ব্যপক প্রশংসিত ও স্বীকৃত। মহাজোট নেতা শেখ হাসিনা বিশে^ তৃতীয় প্রভাবশালী নারী নেত্রী। শুধু তাই নয় বিশে^ প্রভাবশালী সরকার প্রধান হিসাবে প্রথম দশ জনের ভিতরে তিনি আছেন। ইসলামী বিশে^ বর্তমানে শেখ হাসিনাই প্রধান এবং প্রভাবশালী নেতা। মায়ামনমারের শরণার্থীদের আশ্রয় দিয়ে মানবতার জননী হিসাবে বিশে^ সমাদৃত। নেতৃত্ব গুণে মহাজোট বেশ শক্তিশালী অবস্থানে। মহাজোট নেতা শেখ হাসিনা। জোট সংগরিষ্ঠতা পেলে তিনি (শেখ হাসিনা) হবেন সরকার প্রধান। নেতা হিসাবে সব শ্রেনী পেশার ভোটারের প্রথম পছন্দ শেখ হাসিনা।
অন্যদিকে ঐক্যফ্রন্ট এখনো তাদের সম্ভাব্য প্রধানমন্ত্রী প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেনি। ড. কামাল
হোসেন ঐক্যফ্রন্ট নেতা হলেও সরকার প্রধান হবেন না জানিয়ে দিয়েছেন। তাছাড়া ঐক্যফ্রন্টের প্রধান সরিক বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান দূর্নীতি, ও হত্যা মামলার সাজাপ্রাপ্ত আসামী। সাবেক চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া একই কারনে কারাগারে। জোটের নেতৃত্ব নিয়ে ঐক্যফ্রন্টের আভ্যন্তরিণ টানাপোড়েন ভোটারের আস্থায় চির ধরাবে সন্দেহ নেই।

৩. নেতৃত্বের সততা ঃ নেতাকে সৎ হতে হবে। এটাই ভোটারের চাওয়া। জাতীয় বা আঞ্চলিক নেতা। সততার ক্ষেত্রে সবারই মাপকাঠি এক। ভোটার প্রত্যাসা করে তাদের নেতা সৎ হোক। যদিও দেশের জনগণ আমাদেও রাজনীতিবিদদের সততার প্রশ্নে বেশ সন্দিহান। তারপরও মন্দের ভাল তাঁরা(জনগণ) খোঁজে। ঐক্যফ্রন্টের প্রধান সরিক বিএনপির চেয়ারপারসন এবং ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান দূর্ণীতির মামলায় সাজাপ্রাপ্ত। আঞ্চলিক অনেক নেতাও একই দোষে দুষ্ট। দূর্ণীতির মামলার কারনে প্রার্থীতা হাড়িয়েছেন অনেকেই। দূর্ণীতি ও স্বজনপ্রিতির কারনে ঐক্যফ্রন্ট নেতৃবৃন্দ ভোটারের আস্থা হাড়িয়েছেন। আগামী ভোটেও এর প্রভাব পরতে বাধ্য। মহাজোট নেতা শেখ হাসিনা। তিনি বরাবরই সৎ ও আদর্শ রাজনীতিক হিসাবে বিশে^ সমাদৃত। আদর্শের বিচারে দুষ্ট নিজ দলের ডাকসাইটে নেতাকেও দল থেকে বহিস্কার করতে দ্বিধা করেননি। নিজে সৎ ও নিষ্ঠাবান। একইভাবে তার মন্ত্রীসভার সদস্য বর্ষিয়ান নেতা আবুল মাল আবদুল মুহিত, তোফায়েল আহমদ, মোহাম্মদ নাসিম, ওবায়দুল কাদের, তরুণ জোনায়েদ আহমেদ পলক, শাহরিয়ার আলম প্রমুখ নেতৃবৃন্দ সততার সাক্ষর রেখেছেন। নেতৃবৃন্দের সততার কারনে মহাজোট ভোটে এগিয়ে আছে।
৪. উন্নয়ন ও ভবিষ্যত পরিকল্পনা ঃ বাংলাদেশ বিশে^ উন্নয়নের রোল মডেল। শেখ হাসিনার নেতৃত্বে
মহাজোট সরকার বিগত দশ বছরে উল্লেখযোগ্য উন্নয়ন করেছে। উন্নয়ন কেবল মাত্র নগর কেন্দ্রিক হয়নি।
টেকনাফ থেকে তেতুলিয়া উন্নয়নের ছোয়া লেগেছে। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, খাদ্য, বস্ত্র, যোগাযোগ,
বাসস্থান প্রতিটি ক্ষেত্রে উন্নতির ছোয়া। দেশের ১১ কোটি মানুষ ইন্টারনেট ব্যবহার করে। ভোটারের হাতে হাতে আধুনিক সুযোগ সুবিধা। উন্নয়ন এবং ভবিষ্যত পরিকল্পনা বিবেচনা করলে মহাজোট যোজন যোজন এগিয়ে। ভোটাররা তাদের অধিকার প্রয়োগের বেলায় অবশ্যই এটা মনে রাখবে। ঐক্যফ্রন্টের প্রধান সরিক বিএনপি ক্ষমতায় থাকতে দূর্ণীতি এবং সন্ত্রাসে নিমজ্জিত ছিল। এখনো তাদের নৈতিকতা এবং মানসিকতায় কোন পরিবর্তন নেই। একাদশ সংসদ নির্বাচনে দূর্ণীতিগ্রস্ত এবং সন্ত্রাসের মদদদাতারাই মনোনয়ন পেয়েছে। সচেতন ভোটাররা ভোটের মাধ্যমে এর সমুচিত জবাবদিতে মুখিয়ে আছে।
৫. প্রচারণা ঃ ভোটের প্রধান এবং গুরুত্বপূর্ণ নিয়ামক প্রচারণা। নানা মাধ্যমে প্রচারণা। ভোটারের
দ্বারে দ্বারে প্রচারণা। পোষ্টার, ব্যানার, লিফলেট, স্টিকার ছাড়াও আধুনিক ডিজিটার প্রচারণায় ভোটারের মনযোগ আকর্ষন করা হচ্ছে। ঐক্যফ্রন্ট প্রচারণার লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড পাচ্ছে না। নির্বাচন কমিশনে অভিযোগের পাহাড়। এর মাধ্যমেই প্রমান হচ্ছে ঐক্যফ্রন্ট প্রচারণায় নেই। ঐক্যফ্রন্টে কেন্দ্রীয়ভাবে প্রচারণায়ও বেশ দূর্বলতা দেখা যাচ্ছে। ঐক্যফ্রন্ট নেতৃবৃন্দ নিজেদের দূর্ণীতি মামলা বা রাজনৈতিক মামলা নিয়ে কোর্টে ব্যতিব্যস্ত থেকে সময় ক্ষেপন করেছে। এখন হঠাৎ নির্বাচনের মাঠে গিয়ে কূল কিনারা পাচ্ছে না। প্রচারণায় ভোটারের আকর্ষন করতে ঐক্যফ্রন্ট মৃয়মান। ভোটেও এর প্রভাব পরবে।

প্রচারণায় মহাজোট বেশ অগ্রগামী। কেন্দ্রীয়ভাবে মহাজোটের নৌকা প্রতিকের প্রচারনা আছে।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বেশ সক্রিয় মহাজোট। একইভাবে ৩০০ আসনের প্রত্যেক মহাজোট
প্রার্থী প্রচারনায় এগিয়ে। প্রচারণার কারনে ভোটারের কাছে মহাজোট প্রার্থীরাই অধিক পরিচিত।
 

Loading...
এই বিভাগের আরো খবর