শুক্রবার   ০৪ ডিসেম্বর ২০২০   অগ্রাহায়ণ ১৯ ১৪২৭  

সাজেক ভ্রমণ: থাকা, খাওয়া, যাতায়াত সব তথ্য (ভিডিওসহ)

প্রকাশিত: ৬ ডিসেম্বর ২০১৯  

পোস্টটি বেশ বড় হওয়ায় সাজেকের থাকা, খাওয়া, যাতায়াত সম্পর্কিত বিস্তারিত তথ্য জানতে নিচে তথ্য ভান্ডার অংশে চলে যান।  যেকোন প্রয়োজনে ফেসবুকে নক দিতে পারেন।

 

সাজেক! সাজেক! সাজেক! হালের ক্রেজ সাজেক (Sajek Valley)। ঘুরাঘুরির জন্য সবার পছন্দের তালিকার শীর্ষে এখন সাজেকের স্থান। অথচ এই সাজেকেই আমার যাওয়া হয় নাই। তাই গত ২১ আগস্ট,২০১৬ তারিখ যাওয়ার সুযোগ পাওয়া মাত্র লুফে নিলাম।

 

বাসে করে খাগড়াছড়ি না গিয়ে আমরা সরাসরি দিঘীনালায় চলে যাবো। রিজার্ভ জীপ দিঘীনালা থেকে আমাদের নিয়ে সাজেক যাবে। সারাদিন অনেক বৃষ্টি হওয়ায় কলাবাগান থেকে রাত ৯টার বাস ছাড়তে ছাড়তে ১০টা বেজে গেল।

 

সারাদিন চোখে ঘুমের রেশ থাকলেও বাসে উঠার পর ঘুম চলে গেল। বন্ধুদের সাথে হাসি-ঠাট্টা আর মোবাইলে গান শুনতে শুনতে সময় পার হয়ে যাচ্ছিলো। বাসে মোট যাত্রী সংখ্যা ২৪ যার মধ্যে আমরাই ১৪ জন।

 

ঢাকা-চট্টগ্রাম রোড চার লেন হওয়ার পর জ্যাম নেই বললেই চলে। রাতের অন্ধকার তাড়িয়ে সাঁই সাঁই করে ছুটে চলছে বাস, সাথে আমরাও। রাত দুটোয় খাবার বিরতি দেওয়া হলো। ফেনীর পার হয়ে বাস ঢাকা-চট্রগ্রাম রুট ছেড়ে বামে ঢুকে গেলো। বেশ আগ্রহ নিয়ে নড়েচড়ে বসলাম। যদিও কিছু সময় পরই ঘুমিয়ে গেলাম।

 

ঘুমের মাঝে হঠাৎ টের পেলাম পাহাড়ী রাস্তার মত টার্ন নিয়ে বাস চলছে। ঘুম ভেঙে গেল। ঘটনা কি জানতে ড্রাইভারের কাছে গেলাম। জানতে পারলাম এরাস্তা শুধু শান্তি ও ইকোনো পরিবহন ব্যবহার করে। কিন্তু এত তাড়াতাড়ি পাহাড়ী রাস্তা কোথা থেকে এলো সে রহস্যর কোন উত্তর মিললো না।

 

চোখ থেকে ঘুম চলে যাওয়ায় দাঁড়িয়ে থেকে রাস্তা দেখছিলাম। কিন্তু এত টার্ন নিচ্ছিলো দাঁড়িয়ে থাকা মুশকিল। বাধ্য হয়ে পাচঁ সিটের মাঝ বরাবর বসে পড়লাম। সামনে তাকিয়ে মনে হচ্ছিলো রোলার কোস্টারে উঠে বসেছি। বেশ সময় পর ড্রাইভারের পিছনের ছোট বসার জায়গা ছিলো, তা খালি হলো। বাকি পথ সেখানে বসেই ছিলাম। বাস জার্নির এইটাই বেস্ট পার্ট।

 

ভোরবেলা দিঘীনালা নেমে দেখি তখনো চারিদিকে কুয়াশা। আগে থেকেই ঠিক করে রাখা জীপ ড্রাইভার আমাদের বনবিহারের গেট থেকে রিসিভ করলো। নাস্তা করার জন্য বাসষ্ট্যান্ডের দিকে রওনা হলাম।

 

নাস্তা করে গেলাম হাজাছড়া ঝর্ণায়। দিঘীনালা বাসষ্ট্যান্ড থেকে ২০ মিনিটের পথ। বাঘাইহাট আর্মি ক্যাম্পের কিছুটা আগে জীপ থেকে নেমে ঝিরি ধরে ১০-১৫ মিনিট হাঁটতে হয়।  পাহাড়ী পথ না হওয়ায় সবাই যেতে পারে।


হাজাছড়া ঝর্না
অনেকদিন পর ঝিরি পথ দেখে মন খুশি হয়ে গেল। আমাদের সাথে থাকা গাইড, জীপের হেল্পারকে জিজ্ঞাসা করলাম ঝিরি পথ দিয়ে ঝর্নায় যাওয়া যাবে না? বললো, যাবে কিন্তু সময় বেশি লাগবে। ঝিরিপথ না ধরে তাই শর্টকাটে যাচ্ছিলাম।

 

হাজাছড়া ঝর্ণা,

দূর থেকে পানি পড়ার শব্দ শুনে পায়ের গতি বেড়ে গেলো। গাছে ঢাকা একটা মোড় ঘুরে দেখি সামনে সুবিশাল ঝর্ণা। অনেক উঁচু থেকে পানি পড়ায়, অনেক দূর থেকেও শোনা যাচ্ছিলো। গতকাল রাতে বৃষ্টি হওয়ায় পানিও ছিলো অনেক বেশি। ঝর্নাটির আরেক নাম ‘শুকনাছড়া ঝর্ণা’ শীতকালে যার প্রমাণ মিলে।

 

আমাদের ভাগ্য বেশ সুপ্রসন্ন ছিলো, রংধনুর দেখা পেলাম। পানি দেখে নিজেকে সংবরন করতে না পেরে নেমে পড়লাম। বন্ধুরা কেউ অবশ্য নামতে রাজি হলো না।

 

পাহাড় বেয়ে ঝর্নার উপরে যাওয়া যায়। তবে যাওয়ার পথ বেশ দুর্গম। সহজে উঠা গেলেও নামার সময় ধরার কিছু থাকে না। বেশ কিছু দুর্ঘটনাও ঘটেছে।


ঝর্ণা দেখে জীপের কাছে চলে এলাম। অপেক্ষার শুরু হলো। আর্মিদের সাথে ১০.৩০ টার এসকোর্টে যেতে হবে। আগে দিনের যেকোন সময় জীপ নিয়ে যাওয়া যেত। শান্তি বাহিনী আর্মির বিগ্রেডিয়ারে জীপে আগুন দেওয়ার পর নতুন নিয়ম হয়েছে। আর্মি এসকোর্ট ছাড়া কোন ট্যুরিস্ট জীপ যেতে দেওয়া হয় না। খুব বেশি ভীড় যেদিন হয় সেদিন ২০০টা পর্যন্ত জীপ একসাথে সাজেক যায়।

 

১০ টায় আর্মি ক্যাম্পে খাতায় সই করে বাঘাইহাট বাজারে গেলাম। পেঁয়াজু, আলুর চপ, বেগুনি, ছোলার দোকান দেখে সবাই হামলে পড়লো। ১ টাকার পেঁয়াজু, ৩ টাকার আলুর চপ-বেগুনি খেয়ে চোখ পড়লো ডাবের দোকানে। ৪০ টাকায় ডাব কিনলাম নাকি পানি তা অবশ্য বোঝা গেলো না। কোন স্বাদ নেই।

 

আর্মির এসকোর্ট গাড়ি আসলে এক লাইনে সব জীপ চলা শুরু করলো। এসকোর্টের একটা জীপ থাকে সবার সামনের, আরেকটা সবার পিছে। কয়েকজন জীপের ছাদে চলে গেলো। কথিত আছে, সাজেক যেতে জীপের ছাদে না বসলে নাকি জার্নির আসল মজা পাওয়া যায় না। তবু দুপুরের তপ্ত রোদে ছাদে গেলাম না, তাছাড়া সারারাত জেগে থাকায় বেশ ঘুম পাচ্ছিলো।

 

অনেকটা সময় ঘুমানোর পর জেগে উঠার সাথে সাথেই অঘটন ঘটলো। পাহাড়ী এক খাড়া ঢালে জীপের গিয়ার আটকে গেলো। এধরনের জীপের ব্রেক হয় মারাত্মক। জীপ থেমে গেলো, নিচের দিকে নামলো না। আমাদের জীপে জ্যাম না থাকায় ঠিক পিছের জীপ থেকে জ্যাম (মোটা কাঠের গুড়িঁর মত যা চাকায় দিলে ব্রেকের কাজ করে) এনে চাকায় দেওয়া হলো। হঠাৎ এমন ঘটনায় হৃৎপিন্ড যেন বন্ধ হয়ে গিয়েছিলো।

 

ড্রাইভার বললো, কয়েকজনকে নামতে হবে। একেবারে খাড়া ঢালে নামতে গিয়ে এক বন্ধু প্রায় পরে যাবে এমন অবস্থা। সাবধানে না নামার জন্য বকা দিতে দিতে নামতে গিয়ে দেখি আসলেই টাল সামলানো কঠিন। ড্রাইভার গিয়ার ঠিক করে চালাতে চালাতে বলছিলো, পাঁচ বছর হলো সাজেক রুটে গাড়ি চালায়, কখনো এমন হয় নাই।

 

ভয়ের মধ্যেও একটা সিএনজিকে আমাদের ওভারটেক করতে দেখে বেশ হাসি পেলো। মাত্র চলা শুরু হওয়ায় জীপ স্পিড পাচ্ছিলো না। স্বস্তি নিয়ে বসা মাত্রই জীপের গ্রিলের সাথে বাধা এক্সটা টায়ার বিকট শব্দে ব্রাস্ট হলো। আত্মা বের হয়েই যাবে এমন এক অবস্থা। বাকি রাস্তা আমার বেশ ভয়েই কাটলো। খাড়া ঢাল দেখলেই ভয় ভয় লাগতেছিলো।

 

আল্লাহর অশেষ রহমতে শেষ পর্যন্ত সুস্থভাবে সাজেক পৌঁছালাম। আমাদের থাকার ব্যবস্থা হয়েছে রুইলুই পাড়ার মারুয়াতি কটেজে(আসল নাম জানা নেই, এইনাম আমার নিজের দেওয়া)। কটেজ দেখে আমরা খুব খুশি। দোতলা কটেজ, উপরে তিনটা রুম, নিচতলায় ২ টা রুম। উপরের কোনার রুমের থেকে ভিউ দারুন। রুম থেকে সূর্যোদয় দেখা যাবে।

 

রুমে ব্যাগ রেখে রিসোর্টের মালিককে ধরলাম আশেপাশে কোন পুকুর বা ঝর্ণার খোঁজে, গোসল করবো। কটেজের প্রতিটা রুমে এটাচাড বাথ থাকলেও পাহাড়ে এসে কলের পানিতে গোসল করার মানে নেই। জানা গেলো ঝর্ণা আছে তবে ২-২.৩০ ঘন্টার হাঁটা পথ তবে কাছেই একটা কুয়া আছে। আমরা তো মহাখুশি। সবাই উনার পিছে পিছে হাঁটা ধরলাম।

 

পাঁচ মিনিটের পথ দশ মিনিট পরেও শেষ হয় না দেখে এক বন্ধু কটেজে ফিরে গেলে। আমি মনে মনে ভাবছিলাম, যেই গরম, গোসল করে কটেজ যেতে যেতে দুইদফা গোসল হয়ে যাবে। পিচঢালা রাস্তা ছেড়ে মাটির রাস্তা, তারপর পাহাড়ী ঢাল বেয়ে নামার পর কুয়ার দেখা মিললো। হেঁটে আসা সার্থক।

 

কুয়াটি ঝর্ণার পানি থেকে সৃষ্ট। খাবার পানি ও গোসলের জন্য দুটো আলাদা কুয়া রয়েছে। খাবার পানির কুয়াটা অগভীর এবং ছোট, গোসলের কুয়াটা বেশ গভীর। কুয়া থেকে এক মগ পানি গায়ে ঢালতেই সব ক্লান্তি দূর হয়ে গেলো, পানি অসম্ভব ঠান্ডা। ইচ্ছামত গোসল করে কটেজের পথ ধরলাম। যাওয়ার পথ শুধু নামার ছিলো, এখন ফিরতে পথে ঢাল বেয়ে উঠতে হবে। তবে এমন গোসল করার জন্য এতটুকু কষ্ট মেনে নেওয়াই যায়।

 

খাবার খেতে বসতেই গরম গরম ভাত, মুরগি, পাহাড়ী সবজি আর ডাল চলে আসলো। মুরগিতে অসম্ভব ঝাল ছিলো। পাহাড়ী মরিচ এমনিতেও অনেক ঝাল। আমার সমস্যা না হলেও বাকিদের বেশ কষ্ট হলো। খাওয়া শেষ লম্বা ঘুম দিতে কটেজে চলে আসলাম। সাজেকে যেহেতু দুই রাত থাকবো আজ ঘুম দেওয়াই যায়।

 

সাজেকের রুইলুই পাড়ার উচ্চতা ১৮০০ ফুট, আমাদের কটেজও এখানে। কটেজের বিপরীতে বিশাল এক গাছ, নিচে বসার ব্যবস্থা আছে। কিছু সময় পাহাড়ী বাতাস খেয়ে বের হলাম চায়ের সন্ধানে। চা খেয়ে হেলিপ্যাডের দিকে রওনা হলাম।

 

সাজেকের রাস্তায় স্ট্রিট লাইট রয়েছে। তবে কিছু কিছু জায়গায় না থাকায় সেখানেই আসল মজা পাওয়া যায়। অন্ধকার রাস্তায় দাঁড়িয়ে আকাশের দিকে তাকালে চোখে পড়ে অসংখ্য তারা। আকাশ খুব পরিষ্কার থাকলে দেখে মিলে মিল্কিওয়ের। অবিশ্বাস্য মনে হলেও আমরা দেখা পেয়েছিলাম।

 

রাতের আকাশ দেখতে দেখতে ঢাল বেয়ে হেলিপ্যাডে উঠে আমরা থ! আকাশে বিশাল এক চাঁদ এবং সেই আলোয় পুরো হেলিপ্যাড আলোকিত। লাইন ধরে সবাই বসে পড়লাম। এখন হবে চন্দ্রস্নান।

 

রাতের খাবার না খেয়ে বের হওয়ায় বেশি সময় থাকা গেল না। হেলিপ্যাড থেকে খাবার দোকান বেশ দূরে হওয়ায় খাবার শেষ সবাই কটেজে চলে আসলাম। কটেজের বারান্দা থেকে চাঁদের আলো দেখতে দেখতে গল্প, আড্ডা-গান দিয়ে শেষ হলো সাজেকের প্রথম রাত।

 

ভোরে এল্যার্মের শব্দে ৪.৩০টায় ঘুম ভাঙলো। রুমে বসেই সূর্যের কয়েকটা ছবি তুলে আবার ঘুমিয়ে পড়লাম। সকালে উঠে সবাই যখন নাস্তা করতে গেল আমি তখন হাঁটতে বের হলাম। সাজেকে অনেক কিছুই আছে। দোলনা, তীর নিক্ষেপ, বসার সুন্দর ব্যবস্থা, পিকনিক স্পট। বিনোদনের অভাব না থাকায় সাজেক এতটা জনপ্রিয়।

 

কটেজে আসার পথে বিজিবি ক্যাম্পে গেলাম। গার্ডরত দুই বিজিবির সাথে কথা বলে জানতে পারলাম দূরে সবচেয়ে বড় যে পাহাড়, যার আড়াল থেকে সূর্য বের হয়, তার নাম ‘লুসাই পাহাড়।’ পাহাড়টা ভারতের। বাংলাদেশ-ভারত বর্ডারের নাম, মিজোরাম বর্ডার। রাতে নাকি দূরে ভারত বর্ডারের ক্যাম্পের আলো দেখা যায় (যদি ঠিকভাবে লক্ষ্য করা যায়)। আরো জানলাম, ভারত-বাংলাদেশের মধ্যেকার পতাকা বৈঠকে সাজেক থেকে দুর্গম পথ ধরে যেতে আসতে মোট তিনদিন সময় লাগে।

 

কংলাক পাড়ায় ভোরে যেতে হয় ভোরে, সূর্যোদয় দেখতে। আর আমরা বের হই সকালের নাস্তার করে। সাজেক থেকে হাঁটা পথে কংলাক যেতে সময় লাগে ৪৫ মিনিট। জীপ দিয়ে পাড়ার নিচ পর্যন্ত যাওয়া যায় শুনে আমরা জীপ নিয়ে গেলাম। ১০ মিনিটের লম্বা ঢালু একটা পথ বেয়ে উঠতেই দেখা পেলাম কংলাক পাড়ার।

 

কংলাক পাড়া সাজেকের সবচেয়ে উঁচু পাহাড় সিপ্পু পাহাড়ে অবস্থিত। সিপ্পু পাহাড় সাজেক তো বটেই পুরো রাঙামাটি জেলার সবচেয়ে উঁচু পাহাড়, উচ্চতা ২৮০০ ফুট। চূড়া থেকে পুরো সাজেকের ৩৬০ ডিগ্রি ভিউ পাওয়া যায়।

 

কংলাক পাড়ায় পাংখো আদিবাসিরা থাকে। পাড়ার অনেকে বাংলায় কথা বলতে না পারলেও ইংরেজিতে বেশ দক্ষ। আমাদের সাথেই একজন ইংরেজি বেশ স্বতর্ফূতভাবে কথা বলছিলো। ভারতের মিজোরাম রাজ্য এখান থেকে বেশ কাছে, হাঁটা পথে ২ ঘন্টার পথ। অনেকেই তাই ভারতের মিজোরাম রাজ্যে গিয়ে পড়াশুনা করে। অন্যান্য আদিবাসিদের থেকে পাংখোরা বেশ আধুনিক।

 

রক প্যারাডাইস কটেজ কংলাকের আরেক চূড়ায় অবস্থিত। কটেজে কেউ না থাকায় আমরা গেলাম। দীর্ঘক্ষন সেখানে বসে নাম না জানা পোকার ডাক শুনে একসময় রুইলুই পাড়ায় ফিরে আসলাম। পাহাড় আর পাহাড়ী মানুষদের সাথে কথা বলতে বলতে দুইদিন সময় যেন দ্রুতই শেষ হয়ে গেলো। আমরা রওনা হলাম রাঙ্গামাটি শহরের উদ্দ্যেশ্যে।

 

সাজেক নিয়ে আমার ব্যাক্তিগত কিছু মতামত

সাজেক (Sajek Valley) আমার কাছে অনেক কমার্শিয়াল মনে হয়েছে। প্রায় সব কটেজ, রিসোর্টে এটাচ বাথ তৈরি করে রুমের ভাড়া বেশি নেওয়া হচ্ছে। এমনিতে আর্মিদের কল্যানে সাজেকের পরিবেশ অত্যন্ত চমৎকার। সব জায়গা পরিষ্কার, প্রশস্ত ফুটপাত। তবে এত কৃত্রিমতা ভালো লাগে নাই। পাহাড় হবে পাহাড়ের মত। যেখানে একটু কষ্ট করতে হবে, এত বিলাসিতা থাকবে না। তবে যারা ট্রেকিং করে বান্দরবনের গহীনে যেতে পারে না তাদের পাহাড়, মেঘ দেখার শখ সবার পূরন হবে।

 

সাজেকের রাস্তায় হাঁটলে মনে হবে যেন কোন এক গ্রামের রাস্তায় হাঁটতেছি। যেই গ্রামের রাস্তাগুলো পিচঢালা। দুইপাশে তাকিয়ে পাহাড় দেখলে তখন সম্ভিত ফিরে আসে। মনে হবে না আমি পাহাড়ে আছি। এমনিতে সাজেকের স্থানীয়রা খুব ভালো।

 

সাজেকের দুঃখ হলো “লুসাই পাহাড়”। সাজেকের যেপাশ দিয়ে সূর্যোদয় হয় সেদিকের ছোট ছোট অনেক পাহাড়ের পরে দূরে বিশাল এক পাহাড় দেখা যায়, এটাই লুসাই পাহাড়। যেই লুসাই পাহাড় থেকে কর্ণফুলী নদীর সৃষ্টি হয়েছে। লুসাই পাহাড় আপনাকে যেদিকে যত দূরেই যান অনুসরন করবে। কিন্তু পাহাড়টি আমাদের না, ভারতের। এর চেয়ে বড় দুঃখ আর কি হতে পারে…!

 

পরিশেষে,
Never lose hope, never stop travelling

সাজেকে থাকা, খাওয়া, যাতায়াত
প্ল্যানিং তথ্য ভান্ডার

এখানের অনেক তথ্যই বেশ পুরনো। তাই যাওয়ার আগে অবশ্যই বর্তমান আপডেট নিয়ে যাবেন।

সাজেকে দেখার যা যা আছে: 

i)রুইলুই পাড়া
ii)মেঘমাচাং, মেঘপুঞ্জি, জুমঘর কটেজ (না থাকলেও গিয়ে দেখা উচিত)
iii)সাজেক ভ্যালি রিসোর্ট (না থাকলেও গিয়ে দেখা উচিত)
iv)স্টোন গার্ডেন (সাজেক ভ্যালি রিসোর্টের পাশে, ২০ টাকা টিকেট)
v)রুইলুই পাড়া থেকে সাজেক হাঁটাহাঁটি করা (ফুটপাতগুলো অসাধারন)
vi)হেলিপ্যাড-১ এ সূর্যাস্ত দেখা
vii)হেলিপ্যাড-২ এ সূর্যোদয় দেখা
viii)কংলাক পাড়া (সাজেক থেকে হেঁটে যেতে ৪৫ মিনিট লাগে, ভোর বেলা যাওয়া ভালো)
ix)কংলাক পাড়ার চূড়া থেকে সূর্যোদয় দেখা
x)হেলিপ্যাড-২ এর পাশের দোলনায় দোল খাওয়া
xi)ঝাড়ভোজ পিকনিক স্পটে যাওয়া (২০ টাকা টিকেট)
xii)রুন্ময় রিসোর্ট (না থাকলেও গিয়ে দেখা উচিত)
xiii)হেলিপ্যাডে বসে রাতের আকাশ উপভোগ করা
xiv)খুব ভোরে মেঘের চাদরে ঢাকা পাহাড় দেখা
xv)কমলক ঝর্ণা (হেঁটে যেতে ২-২.৫ ঘন্টা লাগে, রুইলুই পাড়া থেকে গাইড ৩০০-৩৫০ নিবে)
xvi)রুইলুই পাড়ার কুয়াতে গোসল করা

 

খাগড়াছড়িতে দেখার যা যা আছে

i)রিসাং ঝর্ণা
ii)আলুটিলা গুহা
iii)সিস্টেম রেস্তোরা
iv)পর্যটন মোটেল

দিঘীনালাতে দেখার যা যা আছে

i)হাজাছড়া ঝর্ণা
ii)ঝুলন্ত ব্রিজ
iii)দিঘীনালা বনবিহার
iv)তৈদুছড়া ঝর্ণা
v)সিজুক ঝর্ণা

 

সাজেক যাওয়ার উপায়

সাজেক দুইভাবে যাওয়া যায়। খাগড়াছড়ি থেকে জীপ ভাড়া করে অথবা দিঘীনালা থেকে জীপ ভাড়া করে।

 

প্ল্যান -১

রাতের বাসে খাগড়াছড়ি গিয়ে জীপ ভাড়া করে রিসাং, আলুটিলা গুহা দেখে, দুপুরে খাগড়াছড়ির বিখ্যার “সিস্টেম রেস্তোরা”য় খেয়ে ৩ টার এসকোর্টে সাজেক যাওয়া। সাজেকে যতদিন ইচ্ছা থেকে ফিরত আসার দিন সকাল ১০.৩০ টার এসকোর্টে রওনা হয়ে হাজাছড়া ঝর্ণা ঘুরে খাগড়াছড়ি/দিঘীনালা থেকে ঢাকার বাসে উঠা।

 

প্ল্যান-২

রাতের বাসে দিঘীনালা গিয়ে হাজাছড়া ঝর্ণা দেখে সকাল ১০.৩০টার এসকোর্টে সাজেক যাওয়া। সাজেকে যতদিন ইচ্ছা থেকে ফিরত আসার দিন ৩ টার এসকোর্টে খাগড়াছড়ি আসা। খাগড়াছড়ি সে রাতে থেকে পরের দিন খাগড়াছড়ির সব স্থান দেখা। সেদিন রাতের বাসে ঢাকায় ব্যাক করা।

 

প্ল্যান-৩

ট্রেকিং এর অভ্যাস থাকলে দিঘীনালাতে একদিন বেশি থেকে তৈদুছড়া ঝর্ণা ঘুরে আসতে পারেন। অথবা খাগড়াছড়ির সীমানা পাড়া দিয়েও তৈদুছড়া ঝর্ণায় যাওয়া যায়। এই পথে সময় কম লাগে। এছাড়া বাকিসব প্ল্যান-১,২ এর মতই।

 

যাতায়াত খরচ

ঢাকা-খাগড়াছড়ি – ৫২০ টাকা (হানিফ,শ্যামলীসহ অনেক বাস যায়)
ঢাকা-দিঘীনালা – ৫৮০ টাকা (শুধু শান্তি পরিবহণ যায়)
খাগড়াছড়ি-দিঘীনালা লোকাল জীপে – ৫০/৬০ টাকা
খাগড়াছড়ির রিসাং,আলুটিলা গুহা, জেলা পরিষদ পার্ক দেখার জন্য জীপ ভাড়া – ২০০০ টাকা
সবুজ জীপে, খাগড়াছড়ি থেকে সাজেক – ৭২০০ (সাজেক একরাত থাকবেন, আশেপাশে স্পট ঘুরবেন)
বোলেরো/মাহিন্দ্রা জীপ(সাদা বা ব্লু কালারের পিকআপ টাইপ গাড়ি) খাগড়াছড়ি থেকে সাজেক – ৭৭০০ (সাজেক একরাত থাকবেন, আশেপাশে স্পট ঘুরবেন)

 

খাগড়াছড়িতে জীপের কাউন্টার আছে সেখানে জীপ পাবেন এবং ভাড়া নির্ধারন করা। যদি আপনি একরাতের বেশি থাকতে চান সেক্ষেত্রে অতিরিক্ত কত দিতে হবে তা আগেই জেনে নিবেন।
জীপে ১০/১২ জন উঠা যায়।


সিএনজিতে খাগড়াছড়ি থেকে সাজেক – ৩০০০-৩৫০০ টাকা (সাজেক একরাত থাকবেন, ভাড়া ফিক্সড না দরদাম করে নিবেন)
যদি দুই রাত সাজেকে থাকতে চান তাহলে একবার দিয়ে যাওয়ার জন্য ২০০০-২২০০ টাকা। আবার নিয়ে যাওয়ার জন্য এইরকমই ভাড়া হবে। দরদাম করে নিবেন। সিএনজি পাবেন খাগড়াছড়ি শাপলা চত্বরে।

 

একা/দুইজন হলে বা বাইকে যেতে পারেন। সেক্ষেত্রে খাগড়াছড়ি থেকে না উঠে দিঘীনালা থেকে উঠা ভালো।

 

বাইকে দিঘীনালা থেকে সাজেক – ৬০০ টাকা (এক বাইকে দুইজন উঠতে পারবেন)

 

সাজেক গিয়ে বাইক সাথে রাখার দরকার নেই। আসার সময় সাজেক থেকেই বাইক পাবেন। তবে সিজনে গেলে সাজেক নেমে কনফার্ম হয়ে নিবেন যে বাইক পাওয়া যাবে নাকি।

 

রুইলুই পাড়ায় প্রবেশের সময় জীপ প্রবেশ ফি – ১০০ টাকা
রুইলুই পাড়ায় প্রবেশের সময় প্রতিজন প্রবেশ ফি – ২০ টাকা

এমনিতে সাজেকে যাওয়ার জীপ খাগড়াছড়ি/দিঘীনালাতে গিয়েই পাওয়া যায়। তবে ছুটির দিনে গেলে অনেক ভীড় থাকে তখন পাওয়া নাও যেতে পারে বা পেলেও ভাড়া বেশি চাইতে পারে। তাই আগে থেকে ঠিক করে যাওয়াই ভালো।


খাগড়াছড়ি থেকে সাজেক যেতে সময় লাগে ৩ ঘন্টার মত আর দিঘীনালা থেকে ২.৩০ ঘন্টা।
দীঘিনালার চাঁদের গাড়ির ড্রাইভার শিবু দা- ০১৮২০৭৪৬৭৪৪

 

খরচের তথ্য Shaheen Kamal ভাইয়ের কাছ থেকে আপডেট করা (২৪ জুন, ২০১৯)

 

খাবার খরচ

খাবার খরচ আইটেমভেদে ১০০-২৫০ টাকার মধ্যে হয়ে যাবে।

 

ভাত,ডাল,দেশি মুরগি, সবজি – ১৮০ টাকা

 

রক ক্যান্টিনে, বারবিকিউঃ ১ পিস মুরগি – ২৫০ টাকা, পরোটা – ১০ টাকা
পাহাড়ী হোটেলে, বারবিকিউঃ ১ পিস মুরগি – ২০০ টাকা, পরোটা – ১০ টাকা

 

সেনাবাহিনী পরিচালিত ক্যান্টিন হচ্ছে রক ক্যান্টিন। ওদের খাবারের দাম অন্য সব জায়গা থেকে অনেক বেশি।

 

সাজেকে খাবার রান্না করা থাকে না। যাই খাবেন, যখনই খাবেন ১-২ ঘন্টা আগে খাবার অর্ডার করে রাখতে হবে। সাজেক যাওয়ার সময় যেখানে থাকবেন তাদের বললে অথবা জীপ ড্রাইভারকে বললে খাবারের ব্যবস্থা করে রাখবে। সাজেকে সবকিছুই পাওয়া যায় তবে দাম একটু বেশি।

 

থাকার ব্যবস্থা

সাজেকে থাকার অনেক রিসোর্ট, আদিবাসিদের বাসা রয়েছে।

 

আর্মিদের দুইটা রিসোর্ট আছেঃ

i)রুইলুই পাড়ায়, সাজেক রিসোর্ট

সাজেক রিসোর্টের দ্বিতীয় তলায় চারটি কক্ষ আছে। ভি আই পি কক্ষ ১৫,০০০ টাকা। অন্যটি ১২,০০০ টাকা। অপর দুইটি ১০,০০০ টাকা করে প্রতিটি। খাবারের ব্যবস্থা আছে। যোগাযোগ : খাগড়াছড়ি সেনানিবাসের গিরি থেবার মাধ্যমে বুকিং দিতে হবে। যার নম্বর : ০১৮৫৯০২৫৬৯৪। আরেকটি নম্বর : ০১৮৪৭০৭০৩৯৫।

 

ii)সাজেকে, রুন্ময় রিসোর্ট

রুন্ময়ের নীচ তলায় তিনটি কক্ষ আছে। প্রতিটির ভাড়া ৪৪৫০ টাকা। প্রতিটি কক্ষে ২ জন থাকতে পারবেন। ৬০০ টাকা দিয়ে অতিরিক্ত বেড নিতে পারবেন। উপরের তলায় দুইটি কক্ষ আছে ভাড়া ৪৯৫০ টাকা। প্রতিটি কক্ষে দুই জন থাকতে পারবেন। এটাতেও ৬০০ টাকা দিয়ে অতিরিক্ত বেড নিতে পারবেন। চারটি তাবু আছে প্রতি তাবুতে ২৮৫০ টাকা দিয়ে চার জন থাকতে পারবেন। যোগাযোগ : ০১৮৬২০১১৮৫২।

 

মেঘমাচাং

সাজেকে থাকার অন্যতম বেস্ট জায়গা হচ্ছে মেঘমাচাং। মেঘের উপরই মেঘমাচাং। এ যেন মেঘের উপর বাড়ি। এদের তিনটা কটেজ আছে। ভাড়া প্রতিরুম ৩৫০০-৪০০০ টাকা। প্রতি রুমে ৪ জন করে থাকতে পারে।
ফোনঃ ০১৮২২১৬৮৮৭৭

 

পেজ লিংকঃ https://www.facebook.com/meghmachangsajek

 

জুমঘর

সাজেকে আগে শুধু মেঘমাচাং থেকেই মেঘের ভেলায় ভাসা গেলেও এখন জুমঘর নামক আরেকটি রিসোর্ট হয়েছে। বুকিং এবং বিস্তারিতঃ বুকিং এবং বিস্তারিত – 01884208060

 

মেঘপুঞ্জি

মেঘের ভেলায় থাকার জন্য এটাও ভালো একটি রিসোর্ট। এদের চারটি কটেজ আছে। ভাড়া ৩০০০-৩৫০০ টাকা।

যোগাযোগঃ 01911722007, 01815761065

পেজ লিংকঃ https://www.facebook.com/MeghpunjiResort/

 

রুইলুই পাড়া ক্লাব হাউজ

এটি সাজেকের একটু আগে রুইলুই পাড়াতে অবস্থিত। এখানে ১৫ জনের মত থাকতে পারবেন। ভাড়া জনপ্রতি ১৫০ টাকা করে দিতে হবে। নিজেরা রান্না করে খেতে পারবেন। এর কেয়ার টেকার মইয়া লুসাই দাদা সব ব্যবস্থা করে দিবে। লক্ষন নামেও একজন আছে, প্রয়োজনে আপনাদের সহযোগীতা করবে। এখানে দুইটি টয়লেট আছে। একটি ফ্রি ব্যবহার করতে পারবেন। অন্যটির জন্য ২০০ টাকা প্রদান করতে হবে। যোগাযোগ : মইয়া লুসাই – ০১৮৩৮৪৯৭৬১২, ০১৮৭২৪৬৮৯৪২।
লক্ষন – ০১৮৬০১০৩৪০২।

মারুয়াতি কটেজ (এখনো আছে নাকি নিশ্চিত নই, আমরা ২০১৬তে ছিলাম)

 

আমরা এই কটেজে ছিলাম। কটেজের নাম এখনো দেওয়া হয় নাই। এটা রুইলুই পাড়ায় অবস্থিত। ইমানুয়েল রিসোর্টের মালিক এটা ঠিক করে দিয়েছিলো আমাদের। আমরা পুরো কটেজটা ভাড়া নেই। দুইতলা কটেজ। উপরে তিনটা রুম আর নিচে দুইটা রুম। উপরের রুমগুলোতে একটা করে খাট আর নিচের রুমগুলোতে দুইটা করে। আমরা ১৪ জন ছিলাম। প্রতি রাতের ভাড়া ছিলো ৬০০০ টাকা। ৫ টা রুম। প্রতিটায় এটাচড বাথ আছে। পানির সমস্যা নেই।


কটেজের শেষ মাথার উপরের এবং নিচের রুম জোস। এই দুইটা রুম থেকে সূর্যোদয় দেখা যায়।
ফোনঃ ০১৮৬৫৩৪৯১৩০

 

এছাড়া রয়েছে সারা রিসোর্ট, নাগরিক নক, ইমানুয়েল, আলো রিসোর্ট, মেঘাদ্রী ইকো রিসোর্ট।

*রিসোর্টের কিছু কিছু তথ্য Nizam Uddin ভাইয়ের নোট থেকে নেওয়া।

কিছু জরুরী পরামর্শ

*সাজেক যাওয়ার পথে শিশুদের দিকে চকলেট ছুড়ে মারবেন না।


*বাঘাইহাট আর্মি ক্যাম্পে ছবি তোলা নিষেধ।


*সাজেকে আমরা অতিথি। পাহাড়ীদের সংস্কৃতিতে আঘাত লাগে এমন কিছু করবেন না।


*সেনাবাহিনীর লোকরা কোন পরামর্শ দিলে সেটা শুনবেন। তারা আমাদের ভালোর জন্যই বলেন।


*রুইলুই পাড়ার কুয়ায় অবশ্যই গোসল করবেন।


*কংলাক পাড়ায় গেলে পাহাড়ী মরিচ দিয়ে জাম্বুরা ভর্তা খাবেন।


*কংলাক পাড়া সবাই উঠতে পারে তবে বৃষ্টি হলে সাবধান।


*কংলাক পাড়ায় উঠার আগে একটা সাবধান বানী আছে সেটা মানবেন।


*কমলক ঝর্ণায় যাওয়ার সময় ৮০/৮৫ ডিগ্রি এংগেলের খাড়া পাহাড় আছে। ট্রেকিং এর অভ্যাস না থাকলে যাবেন না।


*হাজাছড়া ঝর্ণার উপরে উঠলে বুঝে উঠবেন। এখানে অনেক দুর্ঘটনা ঘটে।


*রিসাং ঝর্ণায় স্লাইড কাটার সময় সাবধান থাকবেন। এখানে অনেক দুর্ঘটনা ঘটে।


*অতি দুঃসাহসিক কিছু করতে গিয়ে গ্রুপের সকলকে বিপদে ফেলবেন না।


*সাজেকের বিভিন্ন জায়গায় ময়লা ফেলার ঝুড়ি আছে। যেখানে সেখানে ময়লা ফেলবেন না।


*সাজেক যত বেলা, যখনই খাবেন আগে থেকে অর্ডার দিতে হবে।


*রিসোর্ট, জীপ আগে থেকে ঠিক করে যাওয়া ভালো।


*সাজেকে শুধু রবি সিমের নেটওয়ার্ক পাওয়া যায়।


*সাজেকে ইলেকট্রিসিটি নাই তবে জেনারেটর আছে। কোন রিসোর্ট/কটেজে থাকবেন সেটার উপর নির্ভর করবে জেনারেটর সুবিধা পাবেন কিনা। আমরা প্রতিদিন ৬-৮ ঘন্টার মত জেনারেটর সুবিধা পেয়েছিলাম। আর এছাড়া সোলার সিস্টেম আছে। সেগুলো দিয়ে বাতি জ্বলে। তবে পাওয়ার ব্যাংক নিয়ে যাওয়াটাই ভালো।


*চাঁদের গাড়ির ছাদে যাওয়ার সময় সাবধান থাকবেন। একটু অসাবধানতাও বড় ধরনের বিপদ ডেকে আনতে পারে।


*ছেলে বা শুধু মেয়েদের গ্রুপ হোক। সাজেকে নিরাপত্তার কোন সমস্যা নেই।

 

বিশেষ পরামর্শঃ সাজেকে (Sajek Valley) এখন অনেক কটেজ হয়েছে। তাই মেঘমাচাং, জুমঘর, মেঘপুঞ্জি, আর্মি রিসোর্ট বা ভিউ দেখা যায় এমন রিসোর্টে থাকতে না চাইলে আগে থেকে বুকিং করে যাওয়ার দরকার নেই। সাজেকে গিয়ে নিয়ে সামনা সামনি ঠিক করলে কমদামে ভালো রিসোর্ট পাওয়া যাবে। পিক সিজনে অবশ্যই বুকিং করে যাবেন।

ভিডিওটি দেখতে এখানে ক্লিক করুন

তথ্যসূত্র: ট্টাভেলার্স হিমেল ডট কম

Loading...