শনিবার   ১৯ অক্টোবর ২০১৯   কার্তিক ৩ ১৪২৬   ১৯ সফর ১৪৪১

গো বিডি ২৪

শিশুর খাদ্য ও পুষ্টি এবং মায়ের করণীয়!

প্রকাশিত: ৭ সেপ্টেম্বর ২০১৯  

ছবি: ইন্টারনেট

ছবি: ইন্টারনেট

জীবনের প্রথম দুই বছরে শিশুর খাবার গ্রহণের অভ্যাস ও পুষ্টি শারীরিকভাবে শিশুটির বেড়ে ওঠা এবং মানসিক বিকাশ নির্ধারণ করে থাকে, যা পরে শোধরানো যায় না। শিশুর দুই বছর বয়স পর্যন্তই শারীরিক বৃদ্ধি ও মানসিক বিকাশের সম্ভাবনার জানালা খোলা থাকে। মায়েদের ধারণা অনুযায়ী শুধু বুকের দুগ্ধপানের ক্ষেত্রে পর্যাপ্ত দুধের অভাব এবং পরিপূরক খাবারে শিশুর অরুচিই যেন আসল সমস্যা। তবে এসবই ভুল ধারণা অথবা ভুল অভ্যাসের ফল।

শিশুর খাবার-দাবার :
জন্মের সঙ্গে সঙ্গে (এক ঘণ্টার মধ্যে) নবজাতককে শালদুধসহ মায়ের দুধ পান করানো নিশ্চিত ককরতে হবে। শিশুর জন্মের প্রথম ৬ মাস (১৮০ দিন) মায়ের দুধ ছাড়া অন্য কোনো তরল খাবার দেওয়া যাবে না। ৬ মাসের পর থেকে ২৪ মাস পর্যন্ত মায়ের দুধের পাশাপাশি যথাযথ পরিমাণে বয়স উপযোগী পরিপূরক খাবার (পরিমাণ অনুযায়ী, গুণগত মানসম্পন্ন ও বিভিন্ন ধরনের খাদ্য) নিশ্চিত করতে হবে। এ সময় পুষ্টি চাহিদা মেটাতে শিশুকে প্রতিদিন কমপক্ষে ৪ বা তারও বেশি রকম খাবার দিতে হবে। এ ধরণেণের খাবারের অন্তর্ভুক্ত হলো প্রাণিজ খাবার, ভিটামিনসমৃদ্ধ ফলমূল ও শাকসবজি, দুগ্ধজাত খাবার, তেল ও চর্বিজাতীয় খাবার, ডাল এবং শস্যজাতীয় খাবার।

৬ থেকে ২৪ মাস বয়সের শিশুর খাবার তৈরি ও খাওয়ানোর আগে অবশ্যই হাত ভালোভাবে সাবান দিয়ে ধুয়ে পরিষ্কার করে নিতে হবে। ৬ মাস পূর্ণ হলে অর্থাৎ ৭ মাস বয়স থেকে মায়ের দুধের পাশাপাশি শিশুকে পরিবারের স্বাভাবিক (আধা শক্ত বা শক্ত) খাবার খাওয়ানো শুরু করতে হবে। শিশুর এই পরিপূরক খাবার অবশ্যই সুষম এবং পুষ্টি উপাদানসমৃদ্ধ হওয়া উচিৎ। যেমন- শর্করা (শক্তিদায়ক); স্নেহ (শক্তিদায়ক); আমিষ (শরীর বৃদ্ধিকারক ও ক্ষয়পূরক); ভিটামিন ও খনিজ লবণ (রোগ প্রতিরোধক) ও পানি। এ ছাড়া ৮ মাস বয়স থেকে শিশু নিজ হাতে ধরে খেতে পারে, এমন খাবার দিতে হবে। এক বছর বয়স থেকে শিশুকে পরিবারের সব খাবার এবং প্রতিদিন ভিটামিন-এ সমৃদ্ধ ফল ও সবজি দেওয়া প্রয়োজন।

৬ থেকে ২৪ মাস বয়সী শিশুদের মায়েরা বলে থাকেন, তার সন্তান (৬-২৪ মাস) খেতে চায় না। আসলে এটির কারণ হলো, শিশুকে তার বয়স উপযোগী ও পছন্দমতো বিভিন্ন খাবার খেতে না দেওয়া। শিশুকে অবশ্যই সময় নিয়ে ও ধৈর্য ধরে উৎসাহ দিয়ে ও প্রশংসা করে খাওয়াতে হবে। ৭ মাস থেকে ২ বছর বয়সী শিশুর জন্য যা প্রয়োজন তা হলো- ক. সময় নিয়ে শিশুকে নিজে নিজে খেতে শেখানো। খ. প্রতিদিন পুষ্টিকর খাবার দেওয়া। ঘ. দিনে ৩ বার মূল খাবার এবং ১-২ বার পুষ্টিকর নাশতা খেতে দেওয়া। ঙ. স্বাস্থ্যকর্মী বা ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী নিয়মিত আয়রন খাওয়ানো।

Loading...