শনিবার   ১৯ অক্টোবর ২০১৯   কার্তিক ৩ ১৪২৬   ১৯ সফর ১৪৪১

গো বিডি ২৪

মন্ত্রী সভায় আসছে গাজীপুরের দুই নতুন মুখ

প্রকাশিত: ৩ জানুয়ারি ২০১৯  

একাদশ সংসদ নির্বাচনে টানা তৃতীয় বিজয়ের পরদিন অভিনন্দনের জোয়ারে ভাসছেন আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। চীন, সৌদি আরব, শ্রীলঙ্কা ও ভারতের প্রধানমন্ত্রীসহ বিভিন্ন দেশের সরকার এবং রাষ্ট্রপ্রধান টেলিফোনে অভিনন্দন জানিয়েছেন তাঁকতানটানা তিনবারের বিজয়ী শেখ হাসিনা। সন্দেহ নেই এই মুহূর্তে দেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় ব্যাক্তি তিনিই। কিন্তু আনন্দের আতিশায্যে গা ভাসাতে চান না তিনি। এখনই শুরু করেছেন নতুন সরকার গঠনের কাজ। রাজনৈতিক অঙ্গনে এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন। কেমন হবে শেখ হাসিনার নতুন সরকার।
শেখ হাসিনার ঘনিষ্ঠরা বলছেন, বর্তমান মন্ত্রিসভা যে থাকবে না। এটা মোটামুটি নিশ্চিত। টানা তৃতীয় মেয়াদে শেখ হাসিনা সম্ভবত তার মন্ত্রিসভায় বড় পরিবর্তন আনবেন। ২০০৮ সালের নির্বাচনের বিপুল বিজয়ের পর সরকার গঠনে শেখ হাসিনা সবাইকে চমকে দেন। আনকোরা নতুনদের নিয়ে গঠন করেন মন্ত্রিসভা। ওই মন্ত্রিসভা নিয়ে অনেক কথা উঠেছিল। এমনকি আওয়ামী লীগের সিনিয়র নেতারা যারা মন্ত্রিসভা থেকে বাদ পড়েছিলেন। তারাও মন্ত্রিসভাকে কচি কাঁচার আসর বলেছিলেন।
ছিয়ানব্বই সালের আওয়ামী লীগ সরকারের বেগম মতিয়া চৌধুরী, সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম ছাড়া কেউই ২০০৮ সালের মন্ত্রিসভায় সুযোগ পাননি। আবার ২০১৩ সালে এসে নির্বাচনকালীন মন্ত্রিসভায় তিনি আমির হোসেন আমু, তোফায়েল আহমেদের মত হেভিওয়েটদের ফিরিয়ে আনেন। শরিকদের মধ্য থেকে আনেন রাশেদ খান মেনন, হাসানুল হক ইনুর মত বড় নেতাদের।
২০১৪ সালের মন্ত্রিসভায় তিনি ২০০৮ সালের অধিকাংশ মন্ত্রীদের বাদ দেন। ড. দীপুমনি, হাসান মাহমুদ, ব্যারিষ্টার শফিক আহমেদ, জাহাঙ্গীর কবির নানকরা বাদ পড়েন মন্ত্রিসভা থেকে। গত মেয়াদে এদের বারবার মন্ত্রিসভায় ফিরিয়ে আনার গুঞ্জন শোনা গেলেও পাঁচ বছরে মন্ত্রিসভায় বড় রদবদল হয়নি খুব একটা। এবার কেমন হবে?আওয়ামী লীগের একাধিক সূত্র বলছে, ২০১৪ সালের মন্ত্রিসভায় যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে, তারা বাদ পড়তে পারেন নতুন মন্ত্রিসভা থেকে। মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভূক্ত হতে পারেন নতুন মুখ এবং তরুণরা। দলের ক্লিন ইমেজের নেতাদের তিনি ভেড়াতে পারেন নতুন মন্ত্রিসভায়।কিছু পুরানরাও থাকতে পারেন।
আওয়ামী লীগের ঘনিষ্ঠ সূত্রগুলো বলছে, নতুন মন্ত্রিসভায় সবচেয়ে বড় আকর্ষণ হবেন অর্থমন্ত্রী। বর্তমান অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত এবার আর মন্ত্রী থাকছেন না বলে ধারনা করা হচ্ছে। আবার বছরের প্রথম দিন সাংবাদিকদের কাছে বলেছেন প্রধানমন্ত্রী চাইলে আরও এক বছর থাকবেন। অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রার চাকাকে এগিয়ে নিতে নতুন অর্থমন্ত্রী হিসেবে শেখ হাসিনা কার উপর আস্থা রাখেন সেটা দেখার বিষয়। দীর্ঘদিন ধরেই আওয়ামী লীগ সভাপতি দল এবং সরকারকে আলাদা করার বঙ্গবন্ধুর নীতি অনুসরণের লক্ষ্যে কাজ করছেন। এবার সেক্ষেত্রে হয়তো আরেকধাপ এগুবেন তিনি। ধারণা করা যায়, একঝাঁক নতুন মুখ আর অভিজ্ঞদের মিশেলে হবে শেখ হাসিনার নতুন মন্ত্রিসভা, যেটা হয়তো শপথ নিবে আগামী সপ্তাহে।
যারা এবার আলোচনায় আছেন তাঁরা হলেন সাবেক মন্ত্রী শেখ ফজলুল করিম সেলিম, ডঃ মোঃ আব্দুর রাজ্জাক, অধ্যাপক আলী আশরাফ,শিল্পপতি সালমান এফ রহমান,সাবের হোসেন চৌধুরী,মেজর জেনারেল(অবঃ) সুবিদ আলী ভূঁইয়া, উবায়দুল মোকতাদির চৌধুরী,সিমিন হোসেন(রিমি), রংপুরের টিপু মুনশি,সাবেক আইজিপি নূর মোহাম্মদ, কুমিল্লার আ ক ম বাহার, নেত্রকোনার রেবেকা মমিন, নরসিংদীর নূরুল মজিদ হুমায়ূন,সিলেটের ইমরান আহমেদ,মাহবুবউল আলম হানিফ, যশোরের মেজর জেনারেল(অবঃ) নাসির উদ্দিন ও কাজী নাবিল আহমেদ, বরিশালের কর্নেল (অবঃ) জাহিদ শামিম, ঢাকার এ কে এম রহমতুল্লাহ্, টাঙ্গাইলের একাব্বর হোসেন, চট্রগ্রামের ব্যারিস্টার মুহিবুল হাসান নওফেল ও ফজলে করিম চৌধুরী, গাজীপুরের জাহিদ আহসান রাসেল, ময়মনসিংহের মোছলেম উদ্দিন ও হাফেজ রুহুল আমীন মাদানি, সাবেক কৃতি ফুটবলার আব্দুস সালাম মুর্শিদি, নওগাঁর সাধন চন্দ্র মজুমদার,পঞ্চগড়ের নুরুল ইসলাম সুজন, বগুড়ার আব্দুল মান্নান,হবিগঞ্জের আবু জাহির,ঠাকুরগাঁয়ের দবিরুল ইসলাম, দিনাজপুরের খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, জয়পুরহাটের আবু সাইদ আল মাহমুদ স্বপন, মুন্সিগঞ্জের মৃণাল কান্তি দাশ,ব্যারিস্টার ফজলে নূর তাপস, পাবনার মকবুল হোসেন।
এছাড়াও বর্তমান মন্ত্রী সভার সিনিয়র মন্ত্রী আমির হোসেন আমু,তোফায়েল আহমেদ ,বেগম মতিয়া চৌধুরি, ওবায়দুল কাদেরকে আবারও দেখা যেতে পারেন মন্ত্রী সভায়। এই তিনজনের একজনকে সংসদের উপনেতা হিসেবেও দেখা যেতে পারে। মির্জা আজম পূর্ণ মন্ত্রী হতে পারেন, শাহজাহান কামাল, কাজী কেরামত আলী,নসরুল হামিদ বিপু, শাহরিয়ার আলম, জুনায়েদ আহমেদ পলক মন্ত্রী সভায় টিকে যেতে পারেন ।অর্থমন্ত্রী মুহিত বাদ পড়লে আ হ ম মোস্তফা কামালকে অর্থ মন্ত্রীর দায়িত্ব দিতে পারেন বা টেকনোক্র্যাট কেউ এ পদে আসবেন। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল স্বপদে টিকে যেতে পারেন।
যারা মন্ত্রিসভায় থাকবেন না তাঁদের মধ্যে থেকে স্পীকার, ডেপুটি স্পীকার, চীফ হুইপ ও হুইপ করতে পারেন, এতে আরও কিছু নাম যোগ হবে।ডঃ শিরীন শারমিন চৌধুরী আবারও স্পীকার হচ্ছেন তা এক প্রকার নিশ্চিত। সংরক্ষিত মহিলা কোটা নির্বাচনের পর সেখান থেকে দু একজন যোগ হবে মন্ত্রীসভায়। টেকনোক্র্যাট কোঁটায় দুএকজন মন্ত্রী হতে পারেন ।মোস্তফা জব্বার সেক্ষেত্রে ফিরে আসবেন। অতীতের বাদ পরা জেলাকে প্রাধান্য দিয়ে মন্ত্রী নিযুক্ত করতে পারেন প্রধানমন্ত্রী ।চৌদ্দ দল বা মহাজোটের পুরানরা সম্ভবত থাকছেন না ।জাতীয় পার্টি বিরোধীদলে থাকলে মন্ত্রীসভায় দেখা যাবে না এবার। সে ক্ষেত্রে নতুন যোগ হতে পারে মাহি বি চৌধুরী, মাইনুদ্দিন খান বাদল ও নজিবুল বাশার মাইজভান্ডারী।
 

Loading...
এই বিভাগের আরো খবর