শনিবার   ১৬ নভেম্বর ২০১৯   অগ্রাহায়ণ ১ ১৪২৬   ১৮ রবিউল আউয়াল ১৪৪১

গো বিডি ২৪

বেসিক ব্যাংকের টাকা লোপাট: বাচ্চুর বিরুদ্ধে প্রমাণ পায় না দুদক!

প্রকাশিত: ১৭ অক্টোবর ২০১৯  

হারুন উর রশীদ স্বপন, ডয়চে ভেলে: শেখ আব্দুল হাই বাচ্চু চেয়ারম্যান থাকাকালেই বেসিক ব্যাংকের প্রায় সাড়ে চার হাজার কোটি টাকা লোপাট হয়েছে৷ প্রায় আট বছর ধরে এই ঘটনা তদন্ত করছে দুদক৷ কিন্তু তার বিরুদ্ধে এখনো অপরাধের কোনো প্রমাণ পায়নি তারা৷ খবর ডয়চে ভেলের।


ধানমন্ডি এলাকার আওয়ামী লীগ দলীয় সংসদ সদস্য শেখ ফজলে নূর তাপস সম্প্রতি বাচ্চু প্রশ্নে দুদক চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদের পদত্যাগ দাবি করেছেন৷ তিনি সংবাদ মাধ্যমকে বলেছেন, বেসিক ব্যাংকের ঋণ কেলেঙ্কারির মূল ব্যক্তি ব্যাংকটির তখনকার চেয়ারম্যান আব্দুল হাই বাচ্চু৷ সে কারণে তাকে ব্যাংকের চেয়ারম্যান পদ থেকে অপসারণও করা হয়েছে৷ কিন্তু তার বিরুদ্ধে দুদক কোনো মামলা করেনি, এখন পর্যন্ত কোনো ব্যবস্থাও নেয়নি৷ তিনি বলেন, ‘‘দুদক চেয়ারম্যান যদি দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হন তাহলে তার পদত্যাগ করা উচিত৷’’


এর জবাবে দুদক সচিব মুহাম্মদ দিলোয়ার মঙ্গলবার বলেছেন, ‘‘দুদক তদন্তে এখনও বাচ্চুর বিরুদ্ধে ঋণ কেলেঙ্কারিতে জড়িত থাকার কোনো প্রমাণ পায়নি৷’’


এনিয়ে দুদকের সচিবসহ কোনো কর্মকর্তার বক্তব্য বুধবার পাওয়া যায়নি৷ তবে বেসিক ব্যাংক ঋণ কেলেঙ্কারি মামলায় দুদকের আইনজীবী খুরশীদ আলম খান ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘বাচ্চুর বিরুদ্ধে এখন পর্যন্ত তদন্তে ঋণ কেলেঙ্কারিতে জড়িত থাকার কোনো প্রমাণ পাওয়া না গেলেও তদন্ত এখনও শেষ হয়নি৷ আমরা বলছি না যে তিনি জড়িত নন৷ তিনি জড়িত কী জড়িত না, তা তদন্ত পুরোপুরি শেষ না হলে বলা যাবে না৷ আমরা কোনো মামলারই চার্জাশিট দেইনি৷’’

তিনি বলেন, ‘‘বেসিক ব্যাংকের অনেকগুলো মামলা এবং মামলাগুলো খাত ওয়ারি৷ তদন্তের এই পর্যায়ে আমরা আরো ছয়-সাতটি মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছি৷’’


২০০৯ থেকে ২০১২ সালের মধ্যে বেসিক ব্যাংকের গুলশান, দিলকুশা ও শান্তিনগর শাখা থেকে প্রায় চার হাজার কোটি টাকা ঋণের নামে লোপাটের ঘটনা ঘটে৷ চার বছর অনুসন্ধানের পর দুদক ২০১৫ সালের সেপ্টেম্বরে ব্যাংকের ২৬ জন কর্মকর্তাসহ ১৫৬ জনের বিরুদ্ধে ৫৬টি মামলা করে৷ কিন্তু ওই সময়ে ব্যাংকটির পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান শেখ আবদুল হাই বাচ্চু বা পরিচালনা পর্ষদের অন্য কোনো সদস্যের বিরুদ্ধে মামলা করেনি দুদক৷ বাচ্চুকে ২০০৯ সালে বেসিক ব্যাংকের চেয়ারম্যান পদে নিয়োগ দেয় সরকার৷ ঋণ কেলেঙ্কারির অভিযোগ উঠলে ২০১৪ সালে চাপের মুখে পদত্যাগ করেন বাচ্চু৷


দুদক তাকে মামলার আসামি না করায় তখন ব্যাপক সমালোচনা হয়৷ এরপর উচ্চ আদালতের নির্দেশে ২০১৮ সালে তাকে দুদকে তলব করে কয়েকদফা জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়৷


দুদক বাচ্চুর কোনো সংশ্লিষ্টতা না পেলেও ২০১৬ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি সংসদে তখনকার অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত বলেছিলেন, ‘‘বাংলাদেশ ব্যাংক ও বেসিক ব্যাংক কর্তৃক নিয়োগকৃত বহিঃনিরীক্ষক প্রতিষ্ঠানদ্বয়ের দাখিলকৃত কার্যভিত্তিক নিরীক্ষা প্রতিবেদনে অনিয়মিত ঋণ মঞ্জুর, নিয়োগ ও পদোন্নতিতে তৎকালীন পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান আবদুল হাই বাচ্চুর সংশ্লিষ্টতা ছিল বলে উল্লেখ রয়েছে৷’’


সাবেক অডিটর এন্ড কম্পট্রোলার জেনারেল এবং সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা এম হাফিজ উদ্দিন খান ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘বেসিক ব্যাংকের ঋণ কেলেঙ্কারিতে যে সাবেক চেয়ারম্যান বাচ্চু জড়িত সেটা প্রমাণিত৷ এখন দুদক কেন প্রমাণ পায় না সেটাই বড় প্রশ্ন৷ বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিববেদনে তার জড়িত থাকার কথা বলা হয়েছে৷ তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার কথা বলা হয়েছে৷’’


তিনি আরো বলেন, ‘‘আমি ব্যাক্তিগতভাবেও ওই সময় ব্যাংকের অনেক কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলেছি৷ তারা আমাকে বলেছেন, বাচ্চু সাহেব অনেককে ঋণ দিতে বাধ্য করেছেন যাদের ঋণ পাওয়ার যোগ্যতা নেই৷ এমনকি এমন লোককে ঋণ দিতে বলেছেন যার ওই ব্যাংকে তখন একাউন্টই ছিল না৷’’


ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ‘‘দুদকের এই তদন্ত নিয়ে প্রশ্ন উঠছে৷ বাংলাদেশ ব্যাংক, নিরীক্ষা প্রতিবেদন এবং সংসদীয় কমিটির তদন্তে তার (বাচ্চু) জড়িত থাকার কথা বলা হয়েছে, কিন্তু দুদক প্রমাণ পাচ্ছে না৷ দুদকের উচিত দেশের মানুষের কাছে তাদের অবস্থান পরিস্কার করা৷’’


তিনি বলেন, ‘‘দুদক স্ববিরোধী কথাও বলছে৷ তারা দাবি করেছে এরমধ্যে পাচার হওয়া দুই হাজার কোটি টাকা তারা উদ্ধার করেছে৷ কিন্তু কোথায় পাচার হয়েছিল তা তারা বলতে পারছে না৷’’

Loading...
এই বিভাগের আরো খবর