ব্রেকিং:
পরাজয় মেনে আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষমতা হস্তান্তর করতে রাজি ট্রাম্প ২৭ বছর পর আলোকিত হলো কারাবাখের গ্র্যান্ড মসজিদ

সোমবার   ২৫ জানুয়ারি ২০২১   মাঘ ১২ ১৪২৭  

বঙ্গবন্ধুকে উৎসর্গ করে নিউইয়র্কে সাহিত্য একাডেমির শততম আসর

প্রকাশিত: ৪ এপ্রিল ২০১৯  

উৎসবের মেজাজে অনুষ্ঠিত হলো সাহিত্য একাডেমি, নিউইয়র্ক'র গৌরবময় মাসিক শততম সাহিত্য আসর ও আনন্দ সন্ধ্যা। ২৯ মার্চ সন্ধ্যায় জ্যাকসন হাইটসের বেলোজিনো পার্টি হলে আসরটি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে উৎসর্গ করা হয়। সাহিত্য একাডেমির পরিচালক মোশাররফ হোসেন সবাইকে শুভেচ্ছা জানিয়ে বাংলাদেশের স্থপতি বঙ্গবন্ধু এবং স্বাধীনতা যুদ্ধের মহান শহীদ ও মুক্তিযোদ্ধাদের যথাযথ শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করে আসরের সূচনা করেন।

স্বরচিত পাঠ এবং আবৃত্তির এই পর্বটি সঞ্চালনায় ছিলেন তাহমিনা খান ও বেনজির শিকদার। অংশ নেন খালেদ সরফুদ্দীন, মনজুর কাদের, আবু সায়ীদ রতন, সুরীত বড়ুয়া, ইশতিয়াক রুপু, এ,বি,এম সালেহ উদ্দীন, আব্দুস শহীদ, জেবুন্নেসা জোস্না, ফারহানা ইলিয়াস, হাবীব ফয়েজী, মাসুম আহম্মদ, কামরুন্নাহার রীতা, শিমু আফরোজা, সবিতা দাস, মেহের চৌধুরী, লুবনা কাইজার, রুপা খানম, কুমকুম সেন, এম, এ সাদেক, শম্পা বণিক, শাহীন ইবনে দিলওয়ার, আহম্মেদ সহুল, আলম সিদ্দিকী, নিলুফার ইয়াসমিন, শাম্মী আক্তার, সৈয়দ আহম্মদ জুয়েদ, স্বপ্ন কুমার,শামস চৌধুরী রুশো, শাহ আলম দুলাল, সেলিম ইব্রাহীম ও ছোট্ট বন্ধু অসিম আশরাফ এবং তামান্না আহমেদ শান্তি প্রমুখ। 

আসর শেষে কিছুটা সময় চা বিরতির পর শুরু হয় আনন্দ সন্ধ্যা। কমিউনিটির বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ ও উপস্থিত কবি সাহিত্যিকদের নিয়ে বেলুন উড়িয়ে, পর্বটি উদ্বোধন করেন কথা সাহিত্যিক এবং ১০০তম আসর উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক ফেরদৌস সাজেদিন। 

 

পর্বটি সঞ্চালনা করেন আবৃত্তিকার মুমু আনসারী। শুরুতেই বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণের কিয়দংশ বাজানো হয়। এরপরে তার প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে কবিতা পাঠ করা হয়।

এই পর্বের সূচনা বক্তব্য প্রদান করেন কবি কাজী আতীক। তিনি বলেন, 'জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু, জয় হোক বাঙালির এবং জয় হোক আমাদের প্রাণপ্রিয় সংগঠন সাহিত্য একাডেমির।' 

হাজারো ব্যস্ততার মাঝে সাহিত্য একাডেমির এই উৎসবে সামিল হওয়া সবাইকে প্রাণঢালা শুভেচ্ছা জানিয়ে কাজী আতীক বলেন, সাহিত্য একাডেমি ছুঁয়েছে এক অনন্য মাইল ফলক, গৌরবময় ধারাবাহিকতায় ১০০তম আসর। কথাটা খুব সহজে বলা গেলেও এই অর্জন খুব সহজ ছিল না। প্রতিবন্ধকতা, তীর্যক সমালোচনা ছিল এই পথে। আমাদের আত্মবিশ্বাস ও নিরলস প্রচেষ্টায় অনেক বন্ধুর পথ পেরিয়ে আজ আমরা এখানে। 
তিনি শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করেন সাহিত্য একাডেমির একমাত্র উপদেষ্টা বাংলা সাহিত্যের অন্যতম প্রধান কবি শহীদ কাদরীকে। সাহিত্য একাডেমির শুরু থেকে এখন পর্যন্ত যারা নিয়মিত কিংবা অনিয়মিত অথবা কোনো না কোনো আসরে উপস্থিত ছিলেন এবং যাদের সার্বিক সহযোগিতায় শততম আসরটি উদযাপিত হচ্ছে তাদের সকলের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানান।

বঙ্গবন্ধুর জীবন-ইতিহাস আলোকে স্মারক বক্তব্যের পরে মঞ্চে আসেন সাহিত্য একাডেমির শততম আসর উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক কথা সাহিত্যিক ফেরদৌস সাজেদীন। তিনি সবাইকে অভিবাদন জানিয়ে বলেন, গাছের পাতা যেভাবে একটু বাতাস চায় নড়ার জন্য তেমনি সাহিত্যানুরাগীরাও চায় একটু আন্দোলিত হতে। যারা লেখালেখি করেন তারা মানুষের কাছে যান, আন্দোলিত হন। কারণ লেখার প্রধান উপজীব্য হোল মানুষ। সাহিত্য একাডেমিতে গত ৮ বছরের বেশী সময় ধরে নিয়মিতভাবে প্রতি মাসের শেষ শুক্রবার কবি, লেখক সাহিত্যিকরা মিলিত হয়ে সাহিত্য চর্চা করে যাচ্ছেন। যা প্রবাসে বিস্ময়ের এবং অহংকারের বিষয় বটে। আরও ১০০ বছর ধরে এমন আরও নিয়মিত আসর বসবে। কবিতা দিয়ে নতুন পৃথিবীর সুন্দর আগামী রচনা করবে। তিনি আশা পোষণ করেন, সাহিত্য একাডেমির এই ঘর থেকে অন্তত একজন কোনো একদিন বিশ্বমান স্পর্শী কবিতা লিখবেন। 

এরপরেই ছিল লেখক ও বিভিন্ন পত্রিকার সম্পাদকগণের আলোচনা। পরিচালনায় ছিলেন মোশাররফ হোসেন। তিনি একে একে মঞ্চে ডেকে নেন লেখক হাসান ফেরদৌস, কবি তমিজ উদদীন লোদী, লেখক এ,বি,এম সালেহ উদ্দীন, লেখক সোনিয়া কাদের, কবি শহীদ কাদরীর পত্নী নীরা কাদরী ও লেখক পলি শাহীনাকে। 

তারা বলেন, সাহিত্য একাডেমির মাধ্যমে একটা পরিবার গড়ে উঠেছে। এখানে একে অন্যের সহযোগী।  এই দেশের কঠিন জীবন প্রবাহে থেকেও সাহিত্য একাডেমিতে গেলে লেখালেখির অনুপ্রেরণা পাওয়া যায়। সেখানে উৎসাহের ভিন্ন একটি পরিবেশ বিদ্যমান থাকে। সাহিত্য একাডেমির মৃদু আলো উজ্জ্বল আলো হয়ে শুধু নিউইয়র্কেই নয়, তা সর্বত্র ছড়িয়ে পড়ছে। 

এ সময় হাসান ফেরদৌস সবার উদ্দেশ্যে বলেন, পড়ুন, পড়ুন এবং পড়ুন। তমিজ উদদীন লোদীও বলেন, পড়ার বিকল্প নেই, অবশ্যই পড়ার মধ্যে থাকতে হবে। 

অনুষ্ঠানের ফাঁকে ফাঁকে বাংলাদেশ একাডেমি অব ফাইন আর্টস এর শিল্পীদের পরিবেশনায় মনোমুগ্ধকর নাচ উপভোগ করেন দর্শকরা। 
'জয় বাংলা বাংলার জয়', 'এক নদী রক্ত পেরিয়ে বাংলার আকাশে রক্তিম সূর্য আনলে যারা তোমাদের এই ঋণ কোনদিন শোধ হবে না '-এই দেশাত্মবোধক গানগুলোর মাধ্যমে তারা তাদের পরিবেশনা শুরু করেন। বাফার প্রেসিডেন্ট ফরিদা ইয়াসমিন ও বাফার নৃত্যগুরু অনুপ কুমার দাস শিল্পীদের সাথে মঞ্চে এসে দর্শকদের উষ্ণ শুভেচ্ছা জানান।

অনুষ্ঠানের শেষাংশে কণ্ঠশিল্পী তনিমা হাদী ও চন্দন চৌধুরীর সংগীত পরিবেশনা শ্রোতামন্ডলীকে বিমোহিত করে তোলে। নৈশভোজ শেষে জাতীয় সংগীত পরিবেশন ও উপস্থিত সবাইকে অতল কৃতজ্ঞতা এবং আগামী ১০১ তম আসরের আমন্ত্রণ জানিয়ে প্রায় মধ্যরাতে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।

Loading...
এই বিভাগের আরো খবর