সোমবার   ২৬ অক্টোবর ২০২০   কার্তিক ১০ ১৪২৭  

গো বিডি ২৪

খালেদার মুক্তি কীভাবে?

প্রকাশিত: ১১ ডিসেম্বর ২০১৯  

বাংলাদেশের রাজনীতিতে শব্দ বোমার প্রয়োগ নতুন নয়। ঈদের পরে সরকার পতনে দুর্বার আন্দোলনের ডাক দিয়ে আসছে বিএনপি অনেক আগে থেকেই। এবার তাঁরা বলা শুরু করেছে যে, বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি না হলে বিএনপি কঠোর আন্দোলনে যাবে। মুখে মুখে হুমকির গরম কথা বললেও ভেতরে বিএনপির খালেদার জামিনের ব্যাপারে সরকারের সঙ্গে সমঝোতার চেষ্টা করছে বলে খবরে প্রকাশ। একটি সুত্র বলেছে, সমঝোতার অংশ হিসেবেই গত বৃহস্পতিবার খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্য সম্পর্কিত রিপোর্টে আদালতে জমা হয়নি। বঙ্গবন্ধু মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় সময়ের আবেদন করেছে, আগামী ১১ ডিসেম্বর এই স্বাস্থ্য সম্পর্কিত রিপোর্ট আদালতে জমা হওয়ার কথা।  


সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, বিএনপি বাইরে যতই হুমকি ধামকি দিক না কেন ভেতরে ভেতরে তারা নিজেরাও জানে সরকারের সঙ্গে সমঝোতা ছাড়া বেগম খালেদা জিয়ার জামিন সম্ভব নয়। আর একারণেই বাইরে গরম কথা বললেও গোপনে সরকারের সঙ্গে সমঝোতার চেষ্টা করা হচ্ছে।

 
সরকারের সঙ্গে সমঝোতার প্রেক্ষিতেই বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি হতে পারে এমনটি মনে করছে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।একাধিক দায়িত্বশীল সূত্রে জানা গেছে, মূলত তিনটি বিষয় নিয়ে সরকারের সঙ্গে বিএনপি নেতৃবৃন্দ বেগম খালেদা জিয়ার জামিন বিষয়ে সমঝোতার চেষ্টা করছে।


প্রথম বিষয় হলো বেগম খালেদা জিয়া জামিন পেলে কি করবেন, কোথায় যাবেন, তিনি দেশের বাইরে যাবেন কিনা। এক্ষেত্রে বিএনপির বক্তব্য হলো বেগম জিয়া মুক্ত হলেই উন্নত চিকিৎসার জন্য দেশের বাইরে যাবেন। কিন্তু দেশের বাইরে যাওয়ার শর্ত হিসেবে সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, বেগম খালেদা জিয়া যদি চিকিৎসার জন্য দেশের বাইরে যান তাহলে তাকে রাজনীতি থেকে সরে গিয়েই চিকিৎসার জন্য দেশের বাইরে যেতে হবে। কারণ চিকিৎসার জন্য যদি তিনি বিদেশ যান এবং তিনি যদি রাজনীতির মধ্যে সক্রিয় থাকেন তাহলে তিনি বিদেশি গিয়ে সরকারের বিরুদ্ধে নানা রকম অপপ্রচারে লিপ্ত হতে পারেন বলে সরকার আশঙ্কা করছে।


দ্বিতীয় যে বিষয়টি নিয়ে সমঝোতা আটকাচ্ছে তা হলো বেগম খালেদা জিয়ার জামিন কি শর্তহীন জামিন হবে নাকি শর্তযুক্ত জামিন হবে। সাধারণত এ ধরণেই মামলায় শর্তযুক্ত জামিন হয়। আর সেই শর্তের ভেতরে অনেক বিধি নিষেধ আরোপ থাকে। রাজনৈতিক বক্তব্য, বিবৃত্তি প্রদান রহিত থাকে এবং তার চলাফেরাও রহিত। এরকম শর্তগুলো এখন পর্যন্ত সরকার ও বিএনপির মধ্যে চূড়ান্ত হয়নি বলেই সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে।

 
তৃতীয় যে বিষয়টি, বেগম খালেদা জিয়ার জামিনের পর বিএনপির অবস্থান কি হবে? বিএনপি কি নতুন করে সরকার বিরোধী আন্দোলন শুরু করবে নাকি এই জামিনের পর বিএনপির তাদের সাংগঠনিক তৎপরতাগুলো যেমন তাদের কাউন্সিল, অঙ্গ সহযোগী সংগঠনগুলোর সম্মেলন ইত্যাদি বিষয়গুলোর উপর জোর দেবে।


সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে,বেগম খালেদা জিয়ার জামিন পেলে বিএনপি যেন আন্দোলনের কর্মসূচি বা অন্যান্য সরকার বিরোধী অবস্থান থেকে নিজেদের আস্তে আস্তে গুটিয়ে নিয়ে একটি স্বাভাবিক রাজনীতি প্রক্রিয়ার মধ্যে নিজেদেরকে যুক্ত করে। সে বিষয়ে বিএনপির আশ্বাস পাওয়া গেলেও তা চূড়ান্ত হয়নি।


একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র বলছে, সরকার এবং বিএনপির মধ্যে এই বিষয়গুলো নিয়ে সুরাহা হলেই কেবল বেগম জিয়া মুক্তি পেতে পারেন। বিএনপির একটি অংশ সরকারের সঙ্গে এই সমঝোতার জন্য এখনো কাজ করে যাচ্ছে বলে জানা গেছে।


বিএনপির একজন দায়িত্বশীল নেতা বলেছে, বেগম খালেদা জিয়ার জামিনের ব্যাপারে সরকার এবং বিএনপি কাছাকাছি অবস্থায় পৌঁছে গেছে। এখনো কিছু কিছু বিষয় নিয়ে তাদের মধ্যে মতদ্বৈধতা রয়েছে। মতদ্বৈধতাগুলো দূর হলেই বেগম খালেদা জিয়া মুক্তি পেতে পারেন।


যদিও বিএনপির তরফ থেকে মনে করা হচ্ছে, বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি তার আইনগত অধিকার। কারণ ৩৭টি মামলার মধ্যে ৩৫টি মামলায় তিনি জামিন পেয়েছেন। স্বাস্থ্যগত  ও মানবিক কারণে এই দুটি মামলায় তার জামিন হওয়া উচিত।


তবে বিএনপির আইনজীবীরা মনে করছেন যে, সরকার যদি না চায় তাহলে বেগম খালেদা জিয়ার জামিন কোনো দিনই সম্ভব হবে না। কারণ সরকারের কাছে অনেকগুলো মামলা আছে, যে মামলাগুলোতে নাম না জানা ব্যক্তিকে আসামী করা হয়েছে। আর সেখানে খালেদা জিয়ার নাম অন্তর্ভুক্ত করা সময়ের ব্যাপার মাত্র। বিশেষ করে ২০১৩-১৪ সালে সারা দেশে যে অসুস্থ রাজনীতি, গাড়ি ভাঙচুর, অগ্নি সংযোগ এবং মানুষহত্যা সেই সব মামলাগুলোতে বেগম খালেদা জিয়াকে জড়ানো খুবই সহজ একটি প্রক্রিয়া।


সেজন্য বিএনপি বাইরে থেকে নানা রকম হুমকি আর আন্দোলনের কর্মসূচির কথা বললেও ভেতরে তারা সরকারের সঙ্গে একটি সমঝোতার চেষ্টা করছে। আসলে প্যারোল ছাড়া সরকারের পক্ষে খালেদা জিয়াকে জেল থেকে মুক্তি দেওয়ার কোন ক্ষমতা নেই। কারণ আদালতে হস্তক্ষেপ করার ক্ষমতা বা ইচ্ছা কনটাই সরকারের নেই।  তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ প্রেস

Loading...
এই বিভাগের আরো খবর